


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: শুরু করেছিলেন ছোটখাট ব্যবসা দিয়ে। তখন লাইসেন্স ছাড়াই চলত বাজির কেনাবেচা ও তৈরির কাজ। এই অভিযোগে ২০২২ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন চন্দ্রকান্ত বণিক নামে ওই ব্যবসায়ী। কয়েক মাস জেল খাটার পর বাইরে বেরিয়ে ফের শুরু করেন সেই কাজ। এলাকার লোকজনের কাছে তিনি দাবি করেন, বাজি ব্যবসার জন্য লাইসেন্স বের করেছেন। তারপর থেকে ফুলে ফেঁপে ওঠে চন্দ্রকান্তর এই ব্যবসা। বিপুল পরিমাণ অর্ডার আসতে থাকে তাঁর। রায়দিঘি, নামখানা, মন্দিরবাজারে সরবরাহ করা হতো তাঁর তৈরি বাজি। তবে বাজি তৈরি ও মজুত করা নিয়ে চন্দ্রকান্তের উপর গ্রামের মানুষজন বেশ ক্ষিপ্ত ছিলেন। এমনকী এই নিয়ে তাঁর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও বিবাদ তৈরি হয়েছিল। ফলে অনেকের সঙ্গেই বণিক পরিবারের বড় ছেলের সুসম্পর্ক ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন চন্দ্রকান্ত। তখন বাড়িতেই বাজি কিনে এনে মজুত এবং পরে বাজারে বিক্রি করতেন। কিন্তু তাতে আপত্তি করেছিলেন প্রতিবেশীরা। এরপর নিজের বাড়ির অদূরেই একটি ফাঁকা জায়গায় বাজি তৈরির কারখানা ও গুদামঘর বানিয়ে সেখানেই এই কাজকর্ম চালাতেন। কিন্তু প্রায় সময় বাড়ি থেকে মজুত বারুদ আনা নেওয়ার কাজ করতেন কর্মীরা। বারে বারে এই নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেও, কাজ বন্ধ করেননি তিনি। লাইসেন্স নিয়েই এই কাজ করছেন বলে পাল্টা জবাব দিতেন চন্দ্রকান্ত।
সোমবার রাতে যেভাবে বিস্ফোরণ হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, লাইসেন্স নিয়ে আতশবাজির আড়ালে কি অন্য কোনও নিষিদ্ধ বাজি তৈরি করতেন চন্দ্রকান্ত? তাঁর বাড়ির পাশে প্রচুর পরিমাণ শেলের খোল পাওয়া গিয়েছে, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘আসমানি গোলা’ বলা হয়। বাসন্তী পুজোর জন্য বিপুল পরিমাণ বাজি তৈরির অর্ডার পেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেসবই তাঁর বাড়ির ভিতর রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের বিবরণ অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সময় যেভাবে শব্দ হচ্ছিল তাতে তারা নিশ্চিত যে, আসমানী গোলা পরপর ফাটার জন্যই বাড়ির দেওয়াল ভেঙে যায়। গোটা বাড়ির ভিতর যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, একবার যখন এই কাজ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী, তারপর কীভাবে পুলিসের অজান্তে এই কাজ চালিয়ে গেলেন তিনি? বণিক বাড়ির ছোট জামাই কুশময় ভাণ্ডারী বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, মাস গেলে পুলিসকে টাকা দিতে হতো চন্দ্রকান্তকে। সবাই সবকিছু জানতেন। পুলিস আধিকারিকরা বাড়িতে এসে টাকা নিয়ে যেতেন। এই প্রসঙ্গে সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন, এরকম কোনও অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। এলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।