


নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রাম থেকে সোমবার রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের প্রায় ১১০০ স্থানে একযোগে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মোট ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পরিষেবা ও সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
এদিন মঞ্চ থেকে রাজ্যবাসীদের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি অনুমোদনের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা করেন, তিনি বলেন, রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ গড়ে তোলা হচ্ছে এবং জুলাই মাস থেকেই সাধারণ মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড পেতে শুরু করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও তিনি বিশেষ ঘোষণা করেন এদিন। শুভেন্দু অধিকারী জানান, অন্নপূর্ণা প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৭৯ লক্ষ মহিলা উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বিকশিত ভারত জি রাম জি কর্মসূচির আওতায় ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ হিসেবে ৮,৫০০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান।
চাকরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকারি নিয়োগে কোনও ধরনের সুপারিশ বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। পরীক্ষার্থীরা ওএমআর শিটের কার্বন কপি নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন। পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বরকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা তিনি জানান। সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিন দিনের জনকল্যাণ শিবিরে অন্নপূর্ণা, আয়ুষ্মান ভারত, সুকন্যা সমৃদ্ধি, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও আবেদনপত্র পূরণের কাজে সাহায্য করবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কেবল যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের কাছেই পৌঁছাবে এবং ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা বজায় রেখে সমস্ত সুবিধা সরাসরি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থায় কোনও মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান থাকবে না।