


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রবেশ করেছে বর্ষা। আর বিধি অনুযায়ী এই বর্ষাকালীন সময়ে বন্ধ হতে চলেছে জলদাপাড়া অভয়ারণ্য। বর্ষাকালীন নিরাপত্তা ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের স্বার্থে আগামী তিন মাসের জন্য বন্ধ রাখা হবে জাতীয় উদ্যান। পশ্চিমবঙ্গ বন দপ্তরের জলদাপাড়া ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনের জারি করা এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ১৬ জুন ২০২৬ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য উদ্যানটি বন্ধ থাকবে। শুধু জলদাপাড়া নয় আগামী তিন মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে রাজ্যের সমস্ত অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানের দরজা।
বন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা, ভূমিধস, রাস্তার ক্ষতি এবং বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই দিককে মাথায় রেখেই প্রত্যেক বছরের ন্যায় এমন সিদ্ধান্ত বন দপ্তরের। উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান বর্ষাকালে উচ্চ বৃষ্টিপাতের কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্ষাকালে অনেক পর্যটন পথ বন্যাপ্রবণ নদী-অঞ্চল, খাড়া পাহাড়ি রাস্তা, ভূমিধসপ্রবণ ঢাল এবং বনপথের মধ্য দিয়ে যায় সেহেতু এই অঞ্চল অনিরাপদ হয়ে ওঠে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন, ১৯৭২-এর ধারা ৩৩(সি) অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। বন্ধ থাকবে সিঙ্গালিলা, নেওড়া ভ্যালি, গরুমারা, বক্সা সহ সব জাতীয় উদ্যান। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষা শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় পর্যটকদের জন্য জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান খুলে দেওয়া হবে।
বন্যপ্রাণীর প্রজননকাল এবং বনাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রতি বছর ১৬ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন অভয়ারণ্য এবং জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়। বর্ষাকালে জঙ্গলের উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য নিরিবিলি পরিবেশ প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি এই সময় বনাঞ্চল সারা বছরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ও খাদ্যভাণ্ডারও গড়ে তোলে। সেই কারণেই বন দপ্তর বর্ষার তিন মাস মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও উদ্যান বন্ধ রাখার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল বন দপ্তর।