


নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর জন্য পাকিস্তানকে সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তা করেছিল চীন। অভিযানের এক বছর প্রথমবার এই কথা স্বীকার করল বেজিং। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, সম্প্রতি চীনের সরকারি টিভি চ্যানেল সিসিটিভিতে অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়নার (এভিআইসি) ইঞ্জিনিয়ারদের একটি সাক্ষাত্কার সম্প্রচার করা হয়েছে। এভিআইসির অন্তর্গত চেংদু এয়ারক্র্যাফ্ট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইঞ্জিনিয়ার ঝাং হেং বলেন, তাঁরা পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। সেনা ঘাঁটিতেই উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রযুক্তিবিদরা। উল্লেখ্য, চীনের অত্যাধুনিক ফাইটার জেট এবং ড্রোন তৈরির কাজ করে চেংদু। তাদের তৈরি বিভিন্ন মডেলের যুদ্ধবিমান পাকিস্তানকে বিক্রি করেছে চীন। তার মধ্যে অন্যতম জে-১০সিই ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল পাকিস্তানি সেনা। ওই ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, জে-১০সিই যুদ্ধক্ষেত্রে কেমন কাজ করে, অপারেশন সিন্দুরের সময় তার প্রকৃত পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায় তাঁরা সফল। তাঁর দাবি, লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে এই ফাইটার জেট। গত বছর জুলাইয়েই ভারত দাবি করেছিল, পাকিস্তান যে সব যুদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহার করে থাকে, তার ৮১ শতাংশই চীন থেকে কেনা। আর চীন তাদের অস্ত্র পরীক্ষার জন্য পাকিস্তানকে ল্যাবরেটরি হিসাবে ব্যবহার করছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটও জানিয়েছিল, ২০১৫ সাল থেকে ৮২০ কোটি ডলারের চীনা অস্ত্র কিনেছে ইসলামাবাদ। ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় বিশ্বে চতুর্থ স্থানে ছিল চীন। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ অস্ত্রই বিক্রি করা হয়েছে পাকিস্তানকে। তবে, অপারেশন সিন্দুরে সরাসরি পাকিস্তানকে সাহায্যের কথা এতদিন স্বীকার করেনি বেজিং।