


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশ্বকর্মা পুজো মানেই ঘুড়ি-মাঞ্জার খেলা। ঘুড়ির লড়াইয়ে চীনা মাঞ্জা দমনে এবার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে লালবাজার। এবার আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে বলে কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই শহরে একাধিক হটস্পট চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে আগে চীনা মাঞ্জার জেরে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একইসঙ্গে, বিশ্বকর্মা পুজোয় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে ওই হটস্পটগুলিতে।
গত দু’মাসে শহরে চীনা মাঞ্জার জেরে চারটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সবকটিই মা ফ্লাইওভারের উপর। তার মধ্যে দু’টি পার্ক সার্কাস অঞ্চলে। বাকি দু’টি ঘটেছে তপসিয়া এলাকায়। এই ঘটনার জেরেই বিশ্বকর্মা পুজোয় বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। লালবাজার ট্রাফিক বিভাগ ইতিমধ্যেই এ নিয়ে একটি বৈঠক করেছে। সেখানে চীনা মাঞ্জার জেরে দুর্ঘটনার কবলে পড়া এলাকাগুলির মধ্যে হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে পার্ক সার্কাস, বেনিয়াপুকুর, তপসিয়া এলাকাকে।
পুরো এলাকাটি কলকাতা পুলিশের সাউথ-ইস্ট ডিভিশনের অধীনে। এর পাশাপাশি, এই তালিকায় রয়েছে হেস্টিংস থানা এলাকাও। হেস্টিংস থানা এলাকায় দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে ওঠার মুখে চীনা মাঞ্জার জেরে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন বেশ কয়েকজন বাইকচালক।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ড্রোন দিয়ে নজরদারি চলবে মূলত সাউথ-ওয়েস্ট ডিভিশনজুড়ে। ডিভিশনের কন্ট্রোল রুমে থাকবে জায়ান্ট স্ক্রিন। সেখান থেকেই ড্রোনের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করবে পুলিশ। কোন কোন এলাকায় বেশি ঘুড়ি উড়ছে, তা দেখবে কন্ট্রোল রুম। সেই খবর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে স্থানীয় থানা ও ট্রাফিক গার্ডের অফিসারদের কাছে।
মা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি এলাকায় টহল দেবেন তাঁরা। দ্রুত অকুস্থলে গিয়ে মাঞ্জা দমন করবেন উর্দিধারীরা। শুধু তাই নয়, আজ, বুধবার থেকেই মা ফ্লাইওভারে মাঞ্জার উপর নজরদারি বাড়াতে নামছে বাড়তি ফোর্স। কোনো মাঞ্জা সুতো কেটে মা ফ্লাইওভারে পড়ছে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখবে বাহিনী। কোনো দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করবেন পুলিশ কর্মীরা।