


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের দুই প্রান্তে আলাদা আলাদা দুটি ধর্ষণের ঘটনা। একটি ঘটেছে শিয়ালদহের এক হোটেলে। অন্যটি যাদবপুর এলাকায়। দুটি ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতাদের শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার ডোমজুড়ের বাসিন্দা এক তরুণীর সঙ্গে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে পরিচয় হয় অভিযুক্ত অমিত সরকারের। পরে মোবাইল নম্বর আদানপ্রদান হয় এবং দু’জনে প্রণয়ঘটিত সম্পর্কে জড়ান। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যেতেন তাঁরা। তরুণীর অভিযোগ, কিছুদিন আগে ওই অভিযুক্ত শিয়ালদহ এলাকায় আসতে বলেন তাঁকে। তরুণী সেখানে হাজির হলে অভিযুক্ত জানান, এখানকার একটি হোটেলে ‘ফ্রেস’ হয়ে বেরবেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে ওই তরুণী হোটেলে যান। অভিযোগ সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই তরুণী এন্টালি থানায় অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ অমিতকে গ্রেপ্তার করে সোমবার রাতে।
অন্যদিকে, যাদবপুরের বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে এক তরুণীর পরিচয় হয় বর্ধমানে। সেখানে ওই তরুণী একটি নার্সিংহোমে নার্সের কাজ করতেন।
অভিযুক্ত রাজকমল চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি অবিবাহিত। ওই তরুণীর সঙ্গে বর্ধমানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে থাকতে শুরু করেন। নির্যাতিতার দাবি, তাঁকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করা হয়। এরপর অভিযুক্ত ওই তরুণীকে ছেড়ে পালিয়ে যান। মোবাইল বন্ধ করে দেওয়ায় নির্যাতিতা যোগাযোগ করতে পারেননি। কয়েকদিন আগে তাঁর কাছে খবর আসে যে, ওই যুবকের বাড়ি যাদবপুরে। তিনি সেখানে গিয়ে জানতে পারেন অভিযুক্ত রাজকমলের স্ত্রী, মেয়ে-জামাইও রয়েছেন। ওই বাড়িতে গিয়ে অভিযুক্তের খোঁজখবর শুরু করলে রাজকমলের জামাই তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এমনকী গলাও টিপে ধরেন। নির্যাতিতা সেখান থেকে কোনওক্রমে পালিয়ে বাঁচেন। তাঁর বাড়ি আরামবাগে হওয়ায় স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনা যাদবপুরে হওয়ায় তারা জিরো এফআইআর করে কেস স্থানান্তর করে যাদবপুর থানাকে। তারা ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার কেস রুজু করে অভিযুক্তকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে।