


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মোথাবাড়িতে এসআইআর-কে ঘিরে বিক্ষোভ এবং জুডিশিয়াল অফিসারদের আটকে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী হরিরামপুরের সভা থেকে স্পষ্টভাবে জানান, এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও যোগসূত্র নেই। তিনি বলেন, তাঁর দল শান্তি চায় এবং অশান্তির রাজনীতিকে তৃণমূল সমর্থন করে না। একইসঙ্গে তিনি এই ঘটনার জন্য কংগ্রেসের দিকে আঙুল তোলেন। শুক্রবার পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় মোফাক্কারুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর। এদিন দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সিআইডি এর প্রশংসা করেন। নাম না করে তিনি বলেন, মোথাবাড়ির ঘটনায় যিনি জড়িত, তাঁকে হাতেনাতে ধরেছে সিআইডি। এরপরেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাগডোগরা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল এবং সে মুম্বই থেকে এসেছিল। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বাইরের রাজ্য থেকে লোক এনে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, আইএসএফ ও কংগ্রেসেরও উস্কানি রয়েছে এই ঘটনায়। মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিহারের ভোটে এই ধরনের শক্তি বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা সংগঠিত করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় তদন্ত সংস্থা আসার আগেই রাজ্যের সিআইডি মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার সুজাপুরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং মোথাবাড়িতে অবরোধের জেরে এসআইআরের কাজে যুক্ত সাত বিচারককে আটকে রাখে অভিযুক্তরা। পরে এই নিয়ে উত্তাল হয়ে পড়ে সমগ্র এলাকা যার আঁচ ছড়িয়ে পড়ে বাংলা থেকে দিল্লিতেও। গতকাল এই ঘটনায় অশান্তি ছড়ানো ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার মধ্যে রয়েছেন ওই বিধানসভার আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিও। বৃহস্পতিবার ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজি এবং জেলাশাসককে শোকজ ও করা হয়।