


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার টাকি পুরসভায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগে মামলায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার এই মামলায় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের মন্তব্য, ‘জনগণের করের টাকা এভাবে নয়ছয় করা যায় না।’
টাকি পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার প্রদ্যুৎ দাস এই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছিলেন। তারপর বিষয়টি নিয়ে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। প্রাক্তন কাউন্সিলারের দাবি ছিল, অ্যাকাউন্ট জেনারেলের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, টাকি পুরসভায় প্রায় ২০ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে। মামলাকারীর অভিযোগ, পুরসভার অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। তার পরে টাকা তুলে নেওয়া হয় সেই অ্যাকাউন্ট থেকে। এছাড়াও বেআইনিভাবে কর্মী নিয়োগের অভিযোগ করেছিলেন তিনি। আবেদনে অডিট রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এই আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে পুরসভার চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন কর্মীও জড়িত। শুধু তাই নয়, একাধিক জমি দুর্নীতি রয়েছে। মাত্র ৪২০ টাকা লিজে ইটভাটার ব্যবসায় ৪ বিঘা জমি পেয়েছে একটি সংস্থা। তাঁর আরও অভিযোগ ছিল, কোনো রেজোলিউশন ছাড়াই এই সমস্ত সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যান নিজে নিয়েছিলেন। ‘সোনার বাংলা’ হোটেলের জন্য দেওয়া জমি বাৎসরিক ১২০ টাকা হারে লিজ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় প্রবীর চট্টোপাধ্যায় নামে একজন লোয়ার ডিভিশন ক্লার্কের অ্যাকাউন্টে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা ঢোকে।
বুধবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, রাজ্য পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিপোর্ট দেখার পর প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘এটি একটি গুরুতর অপরাধ।’ এরপরই তিনি জানিয়ে দেন, এই ঘটনার তদন্ত করবে সিআইডি। রাজ্য পুলিশকে অবিলম্বে এই মামলার তদন্ত সংক্রান্ত যাবতীয় নথি সিআইডির হাতে তুলে দিতে হবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর সিআইডিকে তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে জমা দিতে হবে । ওই দিন মামলার পরবর্তী শুনানি।