


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার দিল্লিতে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতেই কলকাতায় ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু তাঁর বিমান কলকাতায় অবতরণের আগেই বিমানবন্দরের বাইরে পৌঁছে যান বিজেপি ও তৃণমূল—উভয় দলের কর্মীরা। স্লোগান-পালটা স্লোগানের মধ্যে হঠাৎই তাঁদের খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। অভিযোগ, দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। চড় মারার ঘটনাও ঘটেছে। তারপরেই ভিড়ের মধ্যে থাকা এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, ওই ব্যক্তির কাছে পিস্তল ছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুন করতেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরের বাইরে হাজির হয়েছিলেন। তৃণমূলের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রীতিমতো তোলপাড় পড়ে যায়। দলের সাইবার সেলের তরফ থেকে ওই ব্যক্তির ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিমানবন্দর থেকে বেরনোর সময় ডিম ছোড়ার পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি কর্মীরা। সে জন্যই তাঁরা জমা হয়েছিলেন। জোড়াফুল শিবির ওই পরিকল্পনার কথা জেনে যায়। সেইমতো তৃণমূল কর্মীরাও বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন। অভিষেক যাতে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে নিজেরাই মানববন্ধন করে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় দুই পক্ষের মধ্যে গণ্ডগোল বেঁধে যায়। যেহেতু বিমানবন্দর সর্বক্ষণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় ঘেরা থাকে, তাই সঙ্গে সঙ্গেই ছুটে আসেন কর্তব্যরত জওয়ানরা। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কর্তারা সেখানে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপরই তৃণমূল সরাসরি অভিযোগ তোলে, বিমানবন্দরের বাইরেই ভিড়ের মধ্যে এক ব্যক্তির কাছে পিস্তল ছিল। তার নিশ্চয়ই কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। এমনকী তৃণমূলের তরফে সামাজিক মাধ্যমে ওই ব্যক্তির একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হয়, ‘সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হত্যা করা কি এই ব্যক্তির উদ্দেশ্য ছিল? গেটের বাইরে বন্দুক নিয়ে অপেক্ষা করা কিসের ইঙ্গিত দেয়! বাংলা-বিরোধী বিজেপির শাসনে বাংলা হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসের মুক্তমঞ্চ। ধিক্কার জানাই এই অপশাসনের।’