


সংবাদদাতা, বনগাঁ: দিনে ‘সমাজসেবা’। রাতে ডাকাতি! বহুদিন থেকে এমনই নাকি চলছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় ডাকাতি করার আগে ধরা পড়ল দলের পাঁচ সদস্য। পরে গ্রেপ্তার হয় আরো একজন।
সূত্রের খবর, এই ডাকাত দলে আছে তৃণমূলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এবং পঞ্চায়েতের উপপ্রধান! বাকিরা ঘাস-ফুলের কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। এই পাঁচজনকে জেরা করে গ্রেপ্তার করা হয় পঞ্চায়েতের আরো এক তৃণমূল নেতাকে। শনিবার ধৃতদের প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনার সময় ‘ডিম থেরাপি’ দিল উত্তেজিত জনতা। ছোড়া হয় ইট ও কাদা।
সূত্রের খবর, ডাকাতির জন্য কয়েকজন জড়ো হয়েছে, গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে গতকাল মধ্যরাতে বনগাঁ মহকুমার গোপালনগরের সারদাপল্লী এলাকায় অভিযান চালায় স্থানীয় থানার পুলিশ। তাতেই সাফল্য। পুলিশের হাতে বমাল ধরা পড়ে যায় গোটা ডাকাত দল। উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। এরপর পাঁচজনকে আনা হয় থানায়। শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। তাদের পরিচয় জানতে পেরে রীতিমতো চোখে কপালে ওঠে তদন্তকারীদের।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম আলিম তরফদার, নুরউদ্দিন মণ্ডল ওরফে কালু, জসিমুদ্দিম মণ্ডল, রবি দাস এবং রাহুল মণ্ডল। এর মধ্যে আলিম তরফদার গঙ্গানন্দপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তাদের থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, এক রাউন্ড গুলি, শাবল, লোহার রড ইত্যাদি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ধৃত ডাকাত দলকে জেরা করে আজ সকালে হায়দার মোল্লা নামে তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হায়দার তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি।
জানা গিয়েছে, ধৃত ছ’জনের বিরুদ্ধে অতীতে অপরাধে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ আছে। তাদের ভ্যানে করে কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভ দেখায় সাধারণ মানুষ। গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ডিম, ইট ও কাদা ছোড়া হয়।