


নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: জোহর চক পেরলেই বাঁ দিকে শালিমার রেস্তোঁরা। অদূরেই নূর মহম্মদি হোটেল-রেস্তোঁরা। তারপর মিনারা মসজিদ। দু’পাশে রকমারি দোকানে ভর্তি এলাকার নাম ভিন্ডি বাজার। মহম্মদ আলি রোড এখান থেকে সটান গিয়ে পড়েছে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসে। চলতি নাম ভিটি। সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ ভিন্ডি বাজারকে দেখাল একেবারেই ঘুমন্ত। নিঝুম। কে বলবে, রাত তিনটে সাড়ে তিনটে পর্যন্ত গমগমে এই তল্লাটের বাতাসে থাকে হালিমের খুশবু? এখানকার নিহারি আর পায়ার জন্য গুজরাত থেকেও চলে আসেন খাদ্যরসিকরা। ভিড়ের ঠেলায় দাঁড়ানো পর্যন্ত যায় না ভোর পর্যন্ত। রমজান চলছে যে!
জুহুর ইসকন মন্দির, মহালক্ষ্মীর বাবুলনাথ মন্দিরের বাড়তি খ্যাতি আবার হোলির জন্য। কলকাতার মতো আরব সাগরের পাড়েও মঙ্গলবার পালিত হয়েছে রংয়ের উৎসব। পিচকিরি, আবিরে মেতেছিল শহর। বুধবারও পালিত হচ্ছে হোলি। পাশের লোককে রাঙিয়ে দিয়ে উল্লসিত মন্তব্য ভাসছে, ‘বুরা না মানো হোলি হ্যায়!’
রমজান, হোলিতেই শেষ নয়। মুম্বা দেবীর নামাঙ্কিত শহরে হাজির আরও এক উৎসব। বৃহস্পতিবারের সেমি-ফাইনালে ওয়াংখেড়েতে হাজির থাকার জন্য হন্যে হয়ে টিকিট খুঁজছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। হোটেলের ম্যানেজার যেমন সাংবাদিক শুনেই আকুল সুরে বলছেন, ‘একটা টিকিটও হবে নাকি? ওয়াংখেড়েতে ইন্ডিয়া খেললে কখনও মিস করি না। কিন্তু এবার সব টিকিট উধাও।’ তরুণ ট্যাক্সিচালক হাসান আবার গভীর বাস্তববাদী। তাঁর কাছে শহরে ক্রিকেট ম্যাচ মানেই ট্যাক্সির বাড়তি চাহিদা। বাড়তি ইনকাম। সে ভারতই খেলুক বা আইপিএল হোক, তাঁর কিছু যায় আসে না!
হাসানের মুখেই শোনা গেল রমজান ঘিরে উন্মাদনার কথা। নূর-ই-মহম্মদিতে বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু হয় লাইন। পায়া, নলি নিহারি, হালিমের জন্য। রাত তিনটে পর্যন্ত সরগরম থাকে রেস্তোঁরা। পেটপুজোর পর পারফিউম, পোশাক, জুয়েলারি দোকানের পসরায় হারিয়ে যাওয়া। ভোরের মধ্যে সেহরি সেরে নেন ধর্মপ্রাণরা। তাতে থাকে যাবতীয় নন-ভেজ আইটেম। দিনের আলো ফুটতেই ঘুমিয়ে পড়ে ক্লান্ত ভিন্ডি বাজার।
মুম্বইয়ে হোলির সময়ও মেলে বিশেষ খানা। যাকে বলে পূরণপোলি। আসলে যা ছোলার ডাল ও গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্টি রুটি। তাওয়াতে সেঁকে নেওয়া আটা বা ময়দার রুটির মধ্যে থাকে বেটে নেওয়া ডাল। হালিম যেমন শুধু রমজানের সময়ই মেলে, পূরণপোলিও স্রেফ হোলি উপলক্ষ্যে বানানো হয়। সবচেয়ে তাৎপর্যের, হালিম বা পূরনপোলি জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে। বোম্বে দাঙ্গার দগদগে ক্ষতের শহরে যা হয়ে উঠছে সম্প্রীতির প্রতীক। রসনা কি আর জাত-ধর্ম বোঝে!