


ধর্মান্ধতা, জাত পাতের বিভাজন নিয়ে যখন চারিদিকে এত শোরগোল তখন ‘কালাপাহাড়’ মতো কাহিনি আজও প্রাসঙ্গিক বলেই মনে হয়। ঐতিহাসিক এই কাহিনির অর্ন্তনিহিত প্রকৃত অর্থ খোঁজার চেষ্টায় নাট্য নির্দেশকও সফল। সমকালিন সংস্কৃতি নাট্যদলের উপস্থাপনায় নাটকটি সম্প্রতি আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসে মঞ্চস্থ হল।নাটকের সময়কাল ১৫৬৫ থেকে ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দের বাংলা ও ভারত। ইতিহাসের অন্যতম অশান্ত উত্তাল অধ্যায় হিসাবে চিহ্নিত। এই সময় গৌড়ের সুলতানের সেনাপতি কালাপাহাড় বহু হিন্দু মন্দির ধ্বংস ও লুণ্ঠনের জন্য কুখ্যাত হয়ে ওঠে। আসল গল্পটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কালাচাঁদের জন্ম হয় হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে। একজন সাধারণ যোদ্ধা হয়েও মুসলমান সুলতানের অধীনে কাজ করে সে। দুই স্ত্রী বর্তমান থাকাকালীন গৌড়ের সুলতানের কন্যা দুলারির জেদে তাকে বিবাহ করতে বাধ্য হয় কালাচাঁদ। সেই সময়ের গোঁড়া হিন্দু সমাজ এমন একটি সম্পর্ক কোনোভাবেই মেনে নেয় না। এরপরেই শুরু হয় তার ওপর মানসিক, সামাজিক অত্যাচার। কেন সে ধর্ম ত্যাগ করে বিয়ে করে, তাই নিয়ে নানা বিরোধ বাঁধে। এর পরিণতি? বিচ্ছিন্নতা, ধর্মান্তর, ক্ষোভ, এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংস। গবেষণাপ্রসূত সেই বিস্মৃত মানবিক কাহিনির নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় সুদীপ্ত সরকার প্রসংশনীয়। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ে ধ্রুব মুখোপাধ্যায়, দেবাশিস দাস, তনিমা দাস সরকার, সুকেশ মৈত্র, নীলাঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায়, মনতোষ মুখোপাধ্যায়, রজত শুভ্র পাইন ও অন্যান্যরা সকলকে মুগ্ধ করে। অদ্রীশ রায়ের সেট, পুলক সেনগুপ্তর মিউজিক, এবং সময়ানুগ তাৎপর্যপূর্ন গানের ব্যবহার বিষয়টির বাস্তব রূপ দিতে সাহায্য করেছে।
কলি ঘোষ