


‘কলকাতা আমার বড়ো প্রিয়। ওখানে অনেক বন্ধুও আছে। কিন্তু যাওয়ার তেমন সুযোগ হয় না। আপনারা, কলকাতার মানুষ তো শিল্পের, শিল্পীর গুণগ্রাহী’— বলছিলেন জয়দীপ আহলওয়াত। গোয়ায় তখন সন্ধে গড়াচ্ছে রাতের দিকে। কলকাতার সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে গল্প শুরুই করলেন কলকাতা নিয়ে।
উপলক্ষ্য, ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’-এর ট্রেলার লঞ্চ। বিভিন্ন শহর থেকে প্রায় ১৫০ সাংবাদিক উপস্থিত গোয়ায়। ট্রেলার লঞ্চের আগের দিন তখন ঘরোয়া আলাপচারিতা সেরে হোটেলে ফিরে গিয়েছেন অজয় দেবগণ। জয়দীপ এবং শ্রিয়া শরণ হাসিমুখে বাকিদের সঙ্গে গল্প জুড়েছেন। কলকাতার কথা শুনে শ্রিয়া বলে উঠলেন, ‘শাড়ি আর রসগোল্লা, আমার এই দুটোই ফেভারিট।’ আগামী ২ অক্টোবর মুক্তি পাবে ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’। কিন্তু ঘরোয়া আলাপে গল্প নিয়ে কোনো তথ্য শেয়ার করলেন না দুই শিল্পী। হেসে জানালেন, ধামাকা অপেক্ষা করছে...।
পরের দিন বড়ো আয়োজন। আইনক্স-এর পর্দায় দেখানো হল ট্রেলার। অজয় দেবগণ, টাবু, শ্রিয়াদের চেনা কেমিস্ট্রি। কিন্তু যাঁকে দেখে হাততালির ঝড় উঠল, তিনি জয়দীপ। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন সদস্য। বিজয় সালগাঁওকারের পরিবারের সঙ্গে গত ১১ বছরের বেশি সময় ধরে পরিচিত দর্শক। পার্ট টু-তে কেস সলভ করতে পুলিশের ভূমিকায় ছিলেন অক্ষয় খান্না। এবার জয়দীপ। তুলনা সামলাবেন কীভাবে? গুগলি প্রশ্ন স্ট্রেট ব্যাটে খেললেন জয়দীপ। ‘আমার মনে হয় না তুলনা হবে। প্রত্যেক শিল্পীর জার্নি আলাদা। আমার উপর কোনো চাপ ছিল না’, বললেন তিনি। যোগ্য ক্যাপ্টেনের মতোই হাতে মাইক তুলে নিলেন অজয়। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘তুলনার কোনো প্রশ্নই নেই। কারণ পার্ট টু-তে পুলিশ কেস সলভ করতে পারেনি। তাই এবার এসেছেন এসপি ক্রাইম ব্রাঞ্চ (জয়দীপ)। চরিত্র আলাদা। গল্পের অ্যাপ্রোচ আলাদা।’
মঞ্চে তখন পরিচালক, প্রযোজক সহ তারকারা উপস্থিত। ১২ বছরের জার্নির টুকরো অংশ শেয়ার করছিলেন অভিষেক পাঠক, এই ছবির পরিচালক তথা অন্যতম প্রযোজক। তাঁর কথায়, ‘দ্বিতীয় পার্টের পর আর ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির কিছু তৈরি হবে কি না, আমরা জানতাম না। আড়াই বছর ধরে চিত্রনাট্য লিখেছি’— ‘তারপর যেটা তৈরি হয়েছে, এককথায় ব্রিলিয়ান্ট’, অভিষেকের বাক্য শেষ করলেন অজয়। ফের যেন ক্যাপ্টেন্সি তুলে নিলেন নিজের হাতে।
টাবু এই ফ্র্যাঞ্চাইজির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অকপটে স্বীকার করলেন, ‘কেস যদি ক্লোজ হয়েও যায়, আমি মনে করি মানসিক ভাবে এই যাত্রা কখনো শেষ হওয়ার নয়।’ এই ফ্র্যাঞ্চাইজি এবারই শেষ। ‘কনক্লুশন’। কিন্তু এ যেন ‘দিল মাঙ্গে মোর’-এর গল্প। সাংবাদিকরা প্রায় সমস্বরে জানতে চাইলেন, কেন শেষ হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি? গমগমে গলায় অজয় বললেন, ‘যে কোনো জিনিস টপ-এ থাকতে থাকতে ছেড়ে দিতে হয়। আর কনক্লুশন মানে যা খুশি হতে পারে কিন্তু...।’
শেষ বাক্যে বহু প্রশ্ন তুলে দিলেন অজয়। যার উত্তর মিলবে বড়োপর্দায়।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য • গোয়া