


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে গড়ে উঠছিল পিংলা হাসপাতালের নয়া ভবন। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগেই সিলমোহর দিল জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। বুধবার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে ঠিকাদার শান্তনু পাঁজাকে শো-কজ করা হয়েছে। শো-কজে স্বাস্থ্যদপ্তর তাঁর কাছে জানতে চেয়েছে, কেন নিম্নমানের ও অনুমোদনহীন সামগ্রী ব্যবহার করে এই নির্মাণ কাজ করা হচ্ছিল? পাশাপাশি এই ধরনের বেআইনি কাজের জন্য কেন তাঁর সংস্থাকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’(ব্ল্যাকলিস্টেড) করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। আগামী তিন দিনের মধ্যে ওই ঠিকাদারকে শো-কজের উত্তর দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবারই ‘বর্তমান’-এ ওই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই নড়চড়ে বসে স্বাস্থ্যদপ্তর। সেইসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক স্বাগতা মান্নাও তৎপর হন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর পিংলা গ্রামীণ হাসপাতালের এই নয়া ভবনের শিলান্যাস করেছিলেন বিধায়ক স্বাগতা মান্না সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। বিধায়ক জানিয়েছিলেন, নতুন ভবনে একটি উন্নতমানের প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি গড়ে উঠবে। এই ল্যাবরেটরি চালু হলে এখানকার সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা পিংলা হাসপাতালেই করাতে পারবে। প্রায় ৫৭ লক্ষ টাকা খরচে এই ভবনের কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীদের একাংশ।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপির জেলা নেতা গোবিন্দ দাস অভিযোগ করেন, ভবনের টেন্ডার প্রক্রিয়া তৃণমূল আমলেই সম্পন্ন হয়েছিল। কাজ শুরু হয়ে যাওয়ার পর বিজেপি বিধায়ক তার আবার শিলান্যাস করেন। বিধায়ক তথা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির আমন্ত্রিত প্রতিনিধি বিধায়কের তদারকিতেই ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে বিধায়ক স্বাগতাদেবী। তিনি বলেন, তাঁর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে চক্রান্ত করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বর্তমানের প্রতিনিধিকে বিধায়ক বলেন, এতদিন কাজ বন্ধ ছিল। অভিযোগকারীরা তখন কেন উদ্যোগ নেননি। স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগেই কাজ চলছিল। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর নাম জড়ানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিধায়ক জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরকেও তদন্ত করার নির্দেশ দেন বলে সূত্রের খবর। এরপরই বুধবার স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে ইঞ্জিনিয়ার সহ একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে যায়।
ওই প্রতিনিধি দল গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। ভবন নির্মাণে নিম্নমানের ইট, অনুমোদনহীন পাথরের গুঁড়ো পাওয়া যায়। তদন্তকারী দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে সঙ্গে সঙ্গেই শো-কজ করা হয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, বিধায়ক এই বিষয়ে তৎপর হওয়ায় তদন্তকারী দল পাঠানো হয়েছে। ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেটুকু নির্মাণ কাজ হয়েছে, তা ভেঙে ফেলে, নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলেও জানিয়েছেন সিএমওএইচ।