


সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: দলেরই একাংশের কাউন্সিলার বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে অনাস্থা আনতে পারেন, এমন জল্পনা ছড়াতেই নিজের চেয়ার ধরে রাখতে মরিয়া পুরাতন মালদহ পুরসভার তৃণমূল বোর্ডের চেয়ারম্যান বিভূতিভূষণ ঘোষ। গত মঙ্গলবার বিকেলে নিজের শিবিরের বলে পরিচিত কাউন্সিলারদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেন তিনি। পুরপ্রধানের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম থাকলেও গরহাজির ছিলেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমানে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের বহিষ্কৃত কাউন্সিলার কার্তিক ঘোষ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বশিষ্ট ত্রিবেদী সহ অনেকে।
সূত্রের খবর, মুখে বিজয়া সম্মেলনী বলা হলেও চেয়ারম্যান বিভূতিভূষণ ঘোষ আসলে তাঁর পক্ষে দলের কতজন কাউন্সিলার রয়েছেন, তা নিয়ে জল মাপতেই ওই বৈঠক ডাকেন। সেখানে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান সহ তৃণমূলের সতেরো জনের মধ্যে ১১ জন কাউন্সিলার থাকলেও তাঁদের মধ্যে অনেকেই দু’নৌকায় পা দিয়ে চলছেন বলে খবর। ফলে বর্তমান পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা এলে তাঁরা কোন পক্ষে থাকবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। বিষয়টি চেয়ারম্যান বিভূতিভূষণ ঘোষেরও অজানা নয়। ফলে তৃণমূলের টিকিটে জেতা ওই কাউন্সিলারদের নিজের শিবিরে ধরে রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ পুরপ্রধানের। গোপন বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে উপস্থিত কাউন্সিলারদের কেউই সেভাবে মুখ খুলতে চাননি। বৈঠকে থাকার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান।
পুর চেয়ারম্যান বিভূতিভূষণ ঘোষের বক্তব্য, বিজয়া সম্মেলনী উপলক্ষ্যে আমরা মিলিত হয়েছিলাম। সেখানে রাজনীতি নিয়ে কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, আমাদের জেলা কমিটি নেই। রাজনীতি করতে পারছি না। পঙ্গু হয়ে যাচ্ছি। জেলার নেতারা কেউ আসেন না। আমরাও আর যাই না। এমতাবস্থায় আমরা কী করব, তা নিয়েই আলোচনা হয়। অনাস্থা নিয়ে জল্পনা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যানের বক্তব্য, কে বা কারা অনাস্থা আনার পরিকল্পনা করছেন জানা নেই। তবে যদি অনাস্থা আসে, তখন ফ্লোরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ হবে।
পুরাতন মালদহ পুরসভায় তৃণমূলের একাংশ কাউন্সিলার নিজেদের নির্দল ঘোষণা করে বর্তমান পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। এই পরিকল্পনায় বিজেপির একাংশের মদত রয়েছে বলে দাবি করেছেন খোদ বিজেপির পুরাতন মালদহের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ শীতল দাস। এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে কুর্সি ধরে রাখতে বর্তমান চেয়ারম্যান নিজের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলারকে ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছেন।
সূত্রের খবর, চেয়ারম্যানের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের টিকিটে জেতা বেশ কয়েকজন কাউন্সিলার প্রশ্ন তোলেন, ইংলিশবাজার পুরসভায় যদি তিনজন কাউন্সিলার নিয়ে বিজেপি বোর্ড দখল করতে পারে, তাহলে দু’জন কাউন্সিলার নিয়ে পুরাতন মালদহ পুরসভায় যে পদ্ম শিবির চেয়ারম্যান পদের দখল নিতে পারবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? ইতিমধ্যেই তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলার বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন বলেও আলোচনা হয় বৈঠকে। সেক্ষেত্রে বিজেপির সমর্থনে তৃণমূলের একাংশ কিংবা নিজেদের নির্দল হিসাবে ঘোষণা করার পর তৃণমূলের টিকিটে জেতা কাউন্সিলারদের একাংশের সমর্থনে বিজেপি যদি অনাস্থা আনে, সেক্ষেত্রে কোন পথে তা ঠেকানো হবে? নাকি বিজেপির হাতে বোর্ড তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বৈঠকে।
২০টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট পুরাতন মালদহ পুরসভায় ১৭টি ওয়ার্ডে তৃণমূল, ২টি ওয়ার্ডে বিজেপি এবং একটিতে নির্দল কাউন্সিলার রয়েছেন। কিন্তু তৃণমূল কাউন্সিলাররা কার্যত তিনটি শিবিরে ভাগ হয়ে যাওয়ায় বর্তমান পুরবোর্ড আর কতদিন টিকবে, তা নিয়ে জেলার রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে।