


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটির বণিক মোড়ে সিপিএমের সভায় দফায় দফায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সিপিএমের প্রায় ১০ জন নেতা-কর্মী জখম হয়েছেন। সিপিএমের অভিযোগ, পুলিশের সামনে বিজেপি কর্মীরা দু’দফায় হামলা চালায়। পুলিশ হামলা ঠেকাতে সদর্থক ভূমিকা নেয়নি। যদিও বিজেপি এই হামলার যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সিপিএমের দেশবিরোধী কার্যকলাপের কারণে স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ আছড়ে পড়েছে।
এদিন সন্ধ্যায় বণিক মোড়ে সিপিএমের ঘোষিত কর্মসূচি ছিল। তার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। ওই সভায় সুজন চক্রবর্তী, দীপ্সিতা ধর সহ জেলা নেতৃত্বের আসার কথা ছিল। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা প্রথমে মাইক লাগাতে আসা কর্মীদের ভয় দেখান। আলো লাগাতেও বাধা দেন। এরপর সভার কাজ শুরু হয়। সভা শুরুর কিছুক্ষণ পর বিজেপি কর্মীরা সরাসরি হামলা চালায়। সভামঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে এসএফআইয়ের একাধিক কর্মী আক্রান্ত হন। তার মধ্যে একজনের চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এই অবস্থায় নিমতা থানার পুলিশের সক্রিয়তা দেখা যায়নি। পুলিশের সামনে হামলা হলেও তাঁদের নির্বাক দর্শকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। হামলার কারণে সভা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ওই সময় রাস্তায় থাকা সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর সমাজমাধ্যমে সভা হবে বলে ঘোষণা করেন। তিনি আরও বেশি সংখ্যক কর্মীকে জড়ো হতে আহ্বান জানান। ওই ভাঙা মঞ্চেই সভা শুরু করা হয়। এরপর ৮টা নাগাদ ফের হামলা চালানো হয়। সিপিএমের নেতা-কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সিপিএম নেতা শিবশঙ্কর ঘোষ বলেন, বিজেপির গুণ্ডাবাহিনী দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। ১০ জনের বেশি বাম নেতা-কর্মী জখম হয়েছেন। পুলিশের ভূমিকা ন্যক্কারজনক। অভিযোগ খারিজ করে উত্তর দমদমের বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন, বিজেপির কেউ এই ঘটনায় জড়িত নন। সিপিএমের দেশবিরোধী বক্তব্যে শহরবাসী বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। সেকারণে স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।