


বার্মিংহাম: টেস্ট ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি। তৃতীয় ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি। একঝাঁক রেকর্ড গড়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ২৬৯ করেছেন শুভমান গিল। এশিয়ার কোনও ক্যাপ্টেন এর আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্বিশতরান করেননি। নতুন কীর্তির পর সম্প্রচারকারী চ্যানেলে গিল বলেছেন, ‘পায়ের নড়াচড়া নিয়ে প্রচুর ঘাম ঝরিয়েছি। তার সুফল মিলছে। অবশ্য আগের টেস্ট ম্যাচগুলিতেও ভালোই ব্যাট করছিলাম। ৩০-৪০ রান সহজেই আসছিল। কিন্তু তার পরেই আচমকা মনঃসংযোগ হারিয়ে বড় রানের সুযোগ নষ্ট করেছি। অনেকে বলছিল, ফোকাস বেশি থাকলেও সমস্যা হয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে আমি চেষ্টা করেছি প্রাথমিক ব্যাপারগুলোতে জোর দিতে। ছেলেবেলায় যেভাবে ব্যাট করতাম, তেমনই করেছি। বড় কোনও লক্ষ্য সামনে রেখে নিজের উপর চাপ বাড়াইনি।’
গিলের বাবা লখিন্দার সিংয়েরও একই কথা মনে হয়েছে। বিসিসিআই টিভিতে তিনি বার্তা পাঠানোর ভঙ্গিতে বলেছেন, ‘শুভমান বেটা, ওয়েল প্লেড। তোমার ব্যাটিং দেখে দারুণ মজা পেলাম। মন ভরে গেল। অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে এমন ব্যাটিংই করতে। সেই দিনগুলোই স্মৃতিতে ভাসছিল। তোমার জন্য আমি গর্বিত।’ বাবার সঙ্গে কথোপকথন ফাঁস করে গিল আবার বলেছেন, ‘বাবার জন্যই ক্রিকেটার হয়ে উঠেছি। তাই বাবাকে খুশি করতে পারলে ভালো লাগে। তিনি অবশ্য এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তিনশো রান করার সুবর্ণ সুযোগ হারিয়েছি আমি।’
ইনিংসের শুরুতে বেশ সতর্ক ছিলেন গিল। সেই প্রসঙ্গে ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘প্রথম দিন লাঞ্চের আগে ক্রিজে গিয়েছিলাম। চায়ের বিরতির সময় ১০০ বল খেলে ৩৫-৪০ রান এসেছিল। ড্রেসিং-রুমে ফিরে কোচ গৌতম গম্ভীরকেও সেকথা বলি। জানাই, রান সহজে আসছে না। বলটাও নরম হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছিল। অথচ, প্রথম টেস্টে তুলনায় সহজে রান আসছিল। নিজেকে তখন বলি যে, ক্রিজে থাকাটা জরুরি। ঠিক করেছিলাম, রান উঠুক বা না উঠুক বোলারকে উইকেট উপহার নয়। চেষ্টা করছিলাম, নির্ভুল ব্যাট করার।’