


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মরণোত্তর চক্ষুদানের ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু ঘোষণার সময়সীমা এগিয়ে আনা হয়েছে। রোগী মারা যাওয়ার এক ঘণ্টার মাথাতেই মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা যাবে। একথা জানিয়েছেন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু। বিশ্ব অঙ্গদান দিবসের অনুষ্ঠান শুক্রবার বাঁকুড়া মেডিক্যালের তরফে পালন করা হয়। এদিন ডাক্তারি ও নার্সিং পড়ুয়াদের নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ সচেতনতামূলক পদযাত্রা ও সেমিনারের আয়োজন করে। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু, এমএসভিপি অর্পণকুমার গোস্বামী, সিনিয়র চিকিৎসক ও অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালের নতুন ভবনের লেকচার থিয়েটার হলে আয়োজিত সেমিনারে অধ্যক্ষ বলেন, সাধারণত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কোনও রোগী মারা যাওয়ার ৩-৪ ঘণ্টা পর মৃত্যুর বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু, চক্ষুদানের ক্ষেত্রে ওই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কারণ চোখের কর্নিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের মোটামুটি চার ঘণ্টা পর্যন্ত অক্ষত থাকে। তারমধ্যেই তা সংগ্রহ করতে হয়। পরে তা নির্দিষ্ট উপায়ে কিছুদিন সংরক্ষণ করে রাখা যেতে পারে। ফলে চক্ষুদানে অঙ্গীকার করেছেন এমন রোগী মারা যাওয়ার এক ঘণ্টা পরেই মৃত্যু ঘোষণা করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, সচেতনতার অভাবে বাঁকুড়া শহরেই কয়েকজন মরণোত্তর চক্ষুদাতার কর্নিয়া নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর পর তা যথাসময়ে সংগ্রহ করতে না পারার কারণেই সেটা হয়েছিল। ফলে বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক, নার্সদের সচেতন করা জরুরি। এমএসভিপি বলেন, বর্তমানে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত মানবদেহের যাবতীয় অঙ্গ দান করা যায়। অঙ্গদানের মাধ্যমে আমরা মৃত্যুর পরেও অমর থাকতে পারি। বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা প্রায় ৪০ জনের চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করতে পেরেছি। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।