


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আবারও ভারী বৃষ্টি। আবারও জলবন্দি শহর। আবারও সাধারণ মানুষের অসহায় মৃত্যু। সবমিলিয়ে বর্ষার মরসুমে দিল্লির পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও একবার চরম ব্যর্থ বিজেপি সরকার।
সপ্তাহখানেক আগেই রাজধানীতে প্রবল বৃষ্টিতে দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয় সাতজনের। তাঁদের মধ্যে আবার অধিকাংশই ছিলেন বাঙালি। বৃহস্পতিবারও ভারী বৃষ্টির কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এদিন সকালে কালকাজি এলাকার পরস চকে রাস্তার ধারে দু’জন বাইক আরোহীর উপর একটি নিমগাছ ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সুধীর কুমার নামে বছর পঞ্চাশের ওই প্রৌঢ়ের। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর ২২ বছরের মেয়ে। বিকেলে বসন্ত বিহারে দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয় দু’জন নাবালকের। ফলে বৃহস্পতিবার বৃষ্টির জেরে দিল্লিতে মৃত্যু হল তিনজনের।
জানা গিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে দিল্লির অন্যান্য এলাকার মতো এদিন কালকাজিতেও সকাল থেকে জল জমেছিল রাস্তায়। ফলে যানবাহনের গতি ছিল অত্যন্ত মন্থর। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বাবা-মেয়ের বাইকও অত্যন্ত ধীরগতিতে যাচ্ছিল। গাছ ভেঙে পড়ার মুহূর্তে বাইকের গতি বাড়ানোর চেষ্টা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। দিল্লি পুলিস সূত্রে খবর, এদিন শহরজুড়ে মোট ৬৩টি গাছ পড়ে যাওয়ার খবর এসেছে। যদিও অন্যত্র হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। ইতিমধ্যে এনিয়ে আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে দিল্লি বিধানসভার বিরোধী দলনেত্রী আতিশি প্রত্যেকেই তুলোধনা করেছেন বিজেপিকে। আপের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মাসে দিল্লিকে বেহাল দশায় পরিণত করেছে বিজেপি। বৃষ্টিতে একের পর এক মৃত্যুর নৈতিক দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত পূর্তমন্ত্রী পরবেশ ভার্মার। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, দিল্লির এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পূর্বতন আপ সরকারের অপশাসনের ফলে। এদিনের বৃষ্টিতে দিল্লির অভিজাত ডাঃ বিডি মার্গ এলাকায় জল জমে যায়। গ্রেটার কৈলাস, কালকাজির কিছু আবাসনে নৌকা ব্যবহার করেন আবাসিকরা।