


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: এখনও সামান্যতম কদর কমেনি। বরং উত্তরোত্তর চাহিদা বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যে জেলার গণ্ডি পেরিয়ে বীরভূমের মসলিন তীর্থে তৈরি খাদি কাপড়ের থান দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে সূদুর আমেরিকাতেও খাদির কদর যথেষ্ট রয়েছে। অনলাইনে প্রায়শই মসলিন তীর্থের আধিকারিকরা আন্তর্জাতিক বরাত পাচ্ছেন। উত্তরোত্তর চাহিদা বাড়তে থাকায় পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের জেলা আধিকারিকরা যথেষ্টই উচ্ছ্বসিত।
যদিও উদ্বেগের বিষয় হল দেশ-বিদেশ থেকে ক্রমাগত বরাত মিললেও খাদি থানের সীমিত উৎপাদন। এই পরিস্থিতিতে পর্ষদ কর্তৃপক্ষ এবার উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন তাঁতযন্ত্র। পর্ষদের জেলা আধিকারিক গোপালকৃষ্ণ বসু বলেন, মসলিন তীর্থে তৈরি খাদি কাপড়ের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। বিদেশ থেকেও বরাত আসছে। এই মুহূর্তে আমাদের উৎপাদন সীমিত। যদিও লোকবল নিয়ে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু, তাঁতযন্ত্রের সংখ্যা যথেষ্টই কম। তাই আমরা নতুন পাঁচটি তাঁতযন্ত্র চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত নতুন পাঁচটি তাঁতযন্ত্রের অনুমোদন মিলবে।
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ২০১৮ সালে জেলার সিউড়ি মহকুমার আবদারপুরে মসলিন তীর্থ গড়ে উঠে। এই মসলিন তীর্থে মোট ১০ জন দক্ষ বয়ন শিল্পী রয়েছেন। এছাড়াও আনুসাঙ্গিক কাজের জন্য আরও ১১ জন কর্মী রয়েছেন। দ্বিতল মসলিন তীর্থে মাত্র পাঁচটি তাঁতযন্ত্র রয়েছে। ওই তাঁতযন্ত্রের সাহায্যে বয়ন শিল্পীরা খাদি কাপড় তৈরির কাজ করেন। পর্ষদের তরফে জানা গিয়েছে, মসলিন তীর্থের পথ চলার প্রথম দিন থেকে খাদি কাপড়ের থান তৈরির কাজ চলছে। মাস দুয়েক আগে খাদি মসলিনের উত্তরীয় তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। খাদি কাপড়ের পাশাপাশি খাদি মসলিনের উত্তরীয়র জনপ্রিয়তাও ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে খাদি মসলিনের জাতীয় পতাকা তৈরিও শুরু হয়েছে। কিন্তু, তাঁতযন্ত্রের সংখ্যা কম হওয়ায় এই মুহূর্তে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চিন্তায় আধিকারিকরা।
কেরল থেকে আসা কার্পাসতুলো দিয়ে খাদি কাপড়ের থান সহ খাদি মসলিনের উত্তরীয় তৈরি করা হয়। প্রথম ধাপে তুলো থেকে সুতো তৈরি করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে রং, হার্ডেনিং, সানা গাঁথা, ঢাল সহ মোট ১৮টি ধাপ পেরিয়ে খাদি কাপড়ের থান কিংবা খাদি মসলিনের উত্তরীয় তৈরি হয়। পর্ষদের আধিকারিকদের দাবি, তাঁতযন্ত্রের সংখ্যা বাড়লে উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে। বর্তমান সময়ে মসলিন তীর্থে প্রতি মাসে গড়ে ২০টি করে খাদি কাপড়ের থান তৈরি হয়। যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।