


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: অভাবের সংসারে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখা যায় না, প্রচলিত এই ধারণাকে পালটে দিল জঙ্গিপুরের মেয়ে নাফিসা আনজুম। হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করে সাড়া ফেলে দিয়েছে নাফিসা। তার এই সাফল্যে খুশির জোয়ার ভাগীরথী নদী পাড়ের এই জনপদে। জঙ্গিপুর মুনিরিয়া হাই মাদ্রাসার ছাত্রী নাফিসার প্রাপ্ত নম্বর ৭৬৮। অতি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা নাফিসার। বাবা পেশায় বাইক মেকানিক। জঙ্গিপুরের বরোজ এলাকায় এক কোণে ছোটো একটি বাইক সার্ভিসিং সেন্টার চালান। মা ঘর সামলান। কিন্তু, মেয়ের স্বপ্নপূরণে তাঁরা বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি। নাফিসার কথায়, বাবা-মায়ের পরিশ্রম আমার জেদ বাড়িয়ে দিয়েছিল। আমি জানতাম, সাফল্য ছাড়া আমাদের ভাগ্য বদলানোর আর কোনো রাস্তা নেই।
সাফল্য কি নিছকই ভাগ্য? নাফিসা তা মনে করে না। তার কথায়, এই ফলের নেপথ্যে রয়েছে রুটিনমাফিক দীর্ঘ লড়াই। প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বইয়ের পাতায় সে মুখ গুঁজে পড়ে থাকত। রাত জেগে পড়াশোনা করত। গৃহশিক্ষক ও স্কুলের শিক্ষকদের সঠিক দিশা আর নিজের নিরলস অধ্যবসায় এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই আজ সে সেরাদের তালিকায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশী, সকলের মুখেই আজ নাফিসার স্তুতি। নাফিসার স্বপ্ন এখানেই থেমে নেই। মাধ্যমিকস্তরের এই সাফল্য তার কাছে বড় যুদ্ধের প্রস্তুতির সোপান মাত্র। সে জানায়, তার লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া। সেজন্য ‘নিট’ পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করতে চায়। সহপাঠীদের তার পরামর্শ কঠোর পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই।
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ইসারুল হক বলেন, নাফিসা মেধাবী ছাত্রী। ওকে নিয়ে আমাদের আশা ছিল। আমরা ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। নাফিসার বাবা আনোয়ার শেখ বলেন, মেয়ে যতদূর পড়তে চাইবে পড়াব। কষ্ট করে হলেও মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাব।
মুর্শিদাবাদের মতো পিছিয়ে পড়া জেলা থেকে নাফিসার এই উত্থান জেলার অগণিত ছাত্রছাত্রীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভাব যে মেধার পথে অন্তরায় হতে পারে না, নাফিসা আনজুম তা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে। কৃতী নাফিসা আনজুম।