


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: পাড়ায় চল থেকে বাড়ি চল। মিট দ্য ভোটার থেকে বাংলা বাঁচাও। টানা চার মাস ধরে এমন কর্মসূচি চালিয়েও শিলিগুড়িতে ভোটের দিন কার্যত ‘নিস্পৃহ’ ছিল সিপিএম। তারা তেমন ভেলকি দেখাতে পারেনি। সিপিএম অবশ্য বিষয়টি মানতে নারাজ। যদিও সিপিএম নেতৃত্বের দাবি,তারা নিজস্ব কৌশলেই ভোট করিয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে এনিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
একুশের নির্বাচন থেকেই কোমর ভেঙে যায় সিপিএমের। ‘মেরুকরণের’ হাওয়ায় গা ভাসিয়ে তাদের তরুণ নেতা শংকর ঘোষ পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়ে বাজিমাত করেন। বামভোট যায় রামে। এরপর পুরসভা ও ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ব্যর্থ হয় তারা। রামের ঘর থেকে বামভোট ফেরাতে এবার আদা জল খেয়ে ময়দানে নেমেছিল সিপিএম। চারমাস ধরে তারা প্রচার অভিযান চালায়। পাড়ায় চল কর্মসূচি নিয়ে পাড়া বৈঠক করে। নিবিড় জনসংযোগের জন্য বাড়ি চল ও ‘মিট দ্য ভোটার’ কর্মসূচি করা হয়। বাংলা বাঁচাও কর্মসূচিতে মিছিল, সভা করা হয়।
এমনকী, ভোটের ময়দানে ছুঁৎমার্গ সরিয়ে রেখে ধর্মীয় স্থানেও মাথা ঠোকেন সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী। কিন্তু, বৃহস্পতিবার ভোটের ময়দানে লালপার্টির তেমন সক্রিয়তা চোখে পড়েনি। ভোটারদের বুথ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ তো দূরের কথা, অধিকাংশ জায়গায় তাদের নির্বাচনি বুথ ক্যাম্প অফিস ছিল না। হাতে গোনা কয়েকটি জায়গায় কার্যালয় থাকলেও সেগুলি ছিল না জমজমাট।
দার্জিলিং জেলা সিপিএমের সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, ভোটের চার মাস আগে থেকেই প্রচার অভিযানে ছিলাম। তৃণমূল ও বিজেপির মতো টাকা আমাদের কাছে নেই। তাই আমরা বুথপিছু ক্যাম্প করিনি। এবার কয়েকটি করে বুথ নিয়ে নির্বাচনি ক্যাম্প অফিস করা হয়েছিল। তাতে ভোটারদের উপস্থিতি ভালো ছিল।
২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝড়ে শিলিগুড়ি হাতছাড়া হয় সিপিএমের। ২০১৬ সালে অশোক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সিপিএম ফের কেন্দ্রটি কব্জা করে। বাংলায় ‘লালদ্বীপের’ মাথা উঁচু করে ছিল এই শহর। একুশের নির্বাচনের পর লালপার্টির সংগঠন কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। এবার তারা এখানে ঘুরে দাঁড়াতে ঝাঁপালেও ভোটের ময়দানে তাদের লড়াই তেমন দাগ কাটেনি।
এনিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্ব ভোট গ্রহণ। প্রচার, মনোনয়নপত্র দাখিল পর্বে সক্রিয়তা দেখা গেলেও মূল পর্ব ভোট গ্রহণের দিন নিস্পৃহ ছিল তারা। অর্থাৎ, এখনও লালপার্টি ভেঙে যাওয়ায় সংগঠন মজবুত করতে পারেনি। দলের ঝান্ডা ধরার মতো সর্বত্র যুবক-যুবতীও জোগাড় করতে পারেনি।
সিপিএমের জেলা সম্পপাদক অবশ্য বলেন, কে, কী বলছে, তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। কারণ, আমরা যে ‘স্ট্যাটেজি’ নিয়েছিলাম, সেই মতোই ভোটের দিন ময়দানে ছিলাম। আমাদের ফল ভালো হবে। এবার এখানকার ভোটে আমরাই ফ্যাক্টর।