


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তখনও কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল না। নেপালের প্রকৃতির রূপ মুগ্ধ হয়ে দেখছিলেন বর্ধমানের ইছলাবাদের কল্যাণ তা। সঙ্গীদের সঙ্গে বিদুরে চায়ে চুমুক দিচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ পুলিশ এসে তড়িঘড়ি এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কী হয়েছে কিছু বুঝে ওঠার আগে হঠাৎ এক গম্ভীর আওয়াজ। উপর থেকে কিছু যেন নেমে আসছে। পিছন ফিরে দেখেন মহূর্তেই চোখের সামনে বিশাল জলের রাশি সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেল। মানুষের আর্তনাদ মিশে গেল জলস্রোতের তীব্রতায়। চোখের সামনে অনেককেই ভেসে যেতে দেখলেও প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বর্ধমানের ওই শিক্ষক ও তাঁর সঙ্গীরা। শনিবার রাতে তিনি বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি ভয়ানক ওই দৃশ্য। তিনি বলেন, বেঁচে ফিরতে পারব ভাবতে পারিনি। ওই দৃশ্য মনে করলেই গা কাঁটা দিয়ে উঠছে। আমাদের রাসুয়ায় ওই সেতুর উপর দিয়েই যাওয়ার কথা ছিল। চা পান করতে কিছুক্ষণ বিদুর এলাকায় দাঁড়িয়েছিলাম বলেই হয়তো প্রাণে বেঁচে গিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ২১আগস্ট বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম। কৈলাশ, মানস সরোবর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্ত মাঝপথ থেকে এমন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে হবে বলে আশা করিনি। এতদিন আমরা টিভি বা খবরের কাগজে বিভিন্ন দেশের বিপর্যয়ের ছবি দেখেছিলাম। কিন্তু এবার চোখের সামনে প্রকৃতির ভয়াবহ রূপ দেখলাম। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের এক যুবক নেপালে বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতেন। তাঁর হদিশ এখনও পাওয়া যায়নি। পরিবারের লোকজন তাঁর ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।