


ইটানগর, ৭ নভেম্বর: উদ্ভিদবিজ্ঞানের গবেষণায় বড়সড় সাফল্য। কিন্তু এর মধ্যেই বিজ্ঞানী মহলে ঘনিয়ে এল চিন্তার মেঘ। উত্তর-পূর্বের অরুণাচল প্রদেশে সন্ধান মিলল এক নতুন প্রজাতির ফুলের। সেই উচ্ছ্বাসের মাঝেই চিন্তায় বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে এই উদ্ভিদটি। এই প্রজাতির আর মাত্র ২০-২৫টি পূর্ণবয়স্ক গাছ টিকে রয়েছে। ফলে উদ্ভিদটি আত্মপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ‘মহাবিপন্ন’ প্রজাতির তালিকায় রাখতে বাধ্য হয়েছেন গবেষকরা। গবেষকরা গাছটির নাম দিয়েছেন অ্যাস্কিন্যান্থাস বাসারেনসিস।
জানা গিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের সোই গ্রামের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে উদ্ভিদের সমীক্ষা চালাচ্ছিলেন ‘বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার’ গবেষকরা। সেই সময়ই তাঁরা এই গাছটির সন্ধান পান। এই গবেষকদের দলের অন্যতম সদস্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মী এগাম বাসারের জন্মস্থানের নামানুসারে এই উদ্ভিদটির নামকরণ করা হয়েছে। এই ফুলের গাছটি গাঢ় লাল রঙের। পাতাগুলো বেশ মোটা ও রসালো। ফুলটি লম্বায় প্রায় ২-২.২ সেমি। এই গাছগুলি যেহেতু অন্য উদ্ভিদের গায়ে জন্মায় তাই এদের অপর নাম পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ। গবেষকদের মতে, এই গাছগুলি পাহাড়ি অঞ্চলের ঝুম চাষ এবং ভূমিধসের কারণে বিলুপ্ত হওয়ার পথে। তাই আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন-এর মানদণ্ড অনুযায়ী এই গাছটিকে ‘মহাবিপন্ন’ শ্রেনিতে রাখা হয়েছে। তাই এই উদ্ভিদকে সংরক্ষণ করার জন্য আমাদের সবাইকে এখন থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে।