


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: সুখেন্দুশেখর রায়ের পর সুস্মিতা দেব। লোকসভার পাশাপাশি বিদ্রোহ বাড়ছে রাজ্যসভাতেও। দলের সাংসদদের ধরে রাখতে ব্যর্থ তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও মরিয়া চেষ্টা যে চলছে না, তা নয়। দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বুধবার সকালে সুস্মিতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠান। ফোনও করেন। কিন্তু সুস্মিতা সাড়া দেননি। বুধবারই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা দেশের উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণানের কাছে গিয়ে ইস্তফা দিয়ে আসেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার সাংসদ তথা দেশের প্রাক্তন ভারী শিল্পমন্ত্রী কংগ্রেসের সন্তোষমোহন দেবের কন্যা। তারপর দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বাড়িতে গিয়ে খোশগল্পও করেন। প্রতিবেদককে সুস্মিতা জানিয়েছেন, ‘আমাকে রাজনীতি করতে হবে অসমে। সেখানে তৃণমূলের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। যেভাবে অসমে তৃণমূলকে চলার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছিলাম, তা মানা হয়নি। আর এখন যেভাবে বাংলাতেও গোহারা হারল তৃণমূল, আর কোনো ভবিষ্যৎ দেখছি না। তাই আমি স্রেফ রাজ্যসভার সদস্যপদ নয়, তৃণমূলই ছেড়ে দিলাম।’
বিদ্রোহের আঁচ সংক্রামক হয়েই ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতা থেকে দিল্লি। বিধানসভায় ‘বিদ্রোহী’ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাফ জানিয়েছেন, তাঁর শিবিরে যোগদানকারী বিধায়ক সংখ্যা আর ৫৮’তে আটকে নেই। বেড়ে ৬৪ হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই একত্রিতভাবে চলছি। আমাদের সঙ্গে বিধায়ক সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সংখ্যাটা ৬৫-তে পৌঁছাবে।’ সূত্রের খবর, বুধবার কলকাতা বিমানবন্দর লাগোয়া একটি হোটেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, রথীন ঘোষ, জাভেদ খান, আখরুজ্জামানরা। তবে এই মুহূর্তে যাবতীয় প্রচার টেনে নিচ্ছে দিল্লি। কারণ, এদিন মাথাচাড়া দিয়েছে আরও দু’টি নাম—সায়নী ঘোষ, মালা রায়। এই দুই এমপির ‘জোরে’ই দলবিরোধী আইনের কোপ এড়ানোর মতো সংখ্যা হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করছেন বিক্ষুব্ধরা। ‘প্রেশার ব্লকে’র অন্যতম নেত্রী কাকলি ঘোষদস্তিদারের মন্তব্য, ‘এতেই স্পষ্ট, এখনকার তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি আস্থা চলে যাচ্ছে। না হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকদিন আগেই যাঁদের মহিলা সভানেত্রী-যুব সভানেত্রীর পদ দিলেন, তাঁরাই আমাদের সঙ্গে চলে এল?’ তবে এখনও লোকসভার কক্ষে বিদ্রোহীদের আলাদা বসতে চাওয়ার সই করা চিঠি স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জমা হয়নি। যদিও রাজ্যসভায় বিদ্রোহীদের তালিকা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্বয়ং মমতার। কারণ, নতুন সংযোজন হয়তো রুক্মিণী মল্লিক (কোয়েল)। তাঁর স্বামী টলিউডের প্রযোজক নিশপাল সিং নাকি ডবল ইঞ্জিন বাংলায় ব্যবসা মসৃণভাবে চালাতে কোয়েলকে সেই পরামর্শ দিচ্ছেন।