


নয়াদিল্লি: সেঞ্চুরির পর হেলমেট খুলে, ব্যাট মাটিতে রেখে সটান সমারসল্ট। ঋষভ পন্থের ট্রেডমার্ক সেলিব্রেশন ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে এখন খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু তাঁকে সুস্থ করে তোলা চিকিৎসক দীনসাউ পারদিওয়ালা আশঙ্কিত। ভারতের উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশের কোনও প্রয়োজন নেই। এতে ওর ক্রিকেট কেরিয়ার সমস্যায় পড়তে পারে। ও মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছে। পরিস্থিতি ওকে আরও পরিণত করেছে। তাই ওর বোঝা উচিত, ঝুঁকি নিয়ে এই ধরনের ডিগবাজি না খেয়েও সেলিব্রেশন করা যায়!’
২০২২ সালে ৩০ ডিসেম্বর গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন ঋষভ। তাঁকে প্রথমে দেরাদূনের এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে এয়ারলিফ্টে নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বইয়ে। বার বার অস্ত্রোপচার এবং রিহ্যাবের পর উঠে দাঁড়ান ঋষভ। তবে তিনি যে আবার ভারতের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন, সেটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। ঋষভ মৃত্যুঞ্জয়ী, অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। চড়াই উতরাই পেরিয়ে আজ তিনি টেস্টে টিম ইন্ডিয়ার সহ-অধিনায়ক। হেডিংলেতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে গড়েছেন রেকর্ড। দিয়েছেন সমারসল্ট। তবে মাস তিনেক আগেও তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল সংশয়। অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতের বিপর্যয় এবং ঋষভের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল। মেলবোর্নে র্যাম্প শট খেলে আউট হয়েছিলেন তিনি। সমালোচনার সুরে গাভাসকর বলেছিলেন, স্টুপিড... স্টুপিড... স্টুপিড...। কিন্তু সেই সানিই হেডিংলেতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পর ঋষভের কাছে সমারসল্ট দেখার আবদার করেছিলেন।
ঋষভের কামব্যাক যে সহজ ছিল না, সেই গল্প শুনিয়েছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন কন্ডিশনিং কোচ সোহম দেশাই। তিনি বলেন, ‘একটা সময় ও হোয়াটসঅ্যাপ আন-ইনস্টল করে ফেলেছিল। বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখত ফোন। খুব দরকারে অন করত। ফিটনেস বাড়ানোর জন্য ও অনেক পরিশ্রম করেছে। সময় পেলেই শরীরচর্চা করত। ছন্দ ফিরে পাওয়ার জন্য ঋষভ গত তিন মাসে নিজেকে নিঙড়ে দেয়। এখন তার ফল পাচ্ছে।’