


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া: সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন, সোমবার ডাকা হয়েছিল ১২ ঘণ্টার অ্যাপ ক্যাব ধর্মঘট। তার জেরে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে কলকাতা, হাওড়া এবং শহরতলির যাত্রীদের।
বাম শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ অনুমোদিত অ্যাপ ক্যাব চালক সংগঠন ১২ ঘণ্টার জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। প্রায় ১০ হাজার ক্যাব ও বাইক চালক সামিল হয়েছিলেন বলে দাবি। অভিযোগ, ধর্মঘটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেছে প্রাইভেট ট্যাক্সি। বাড়তি ভাড়া হেঁকেছে যারা ধর্মঘটে সামিল হননি তারা। সবমিলিয়ে শহর ও শহরতলিতে সমস্যায় পড়তে হয় মানুষকে। অধিকাংশ ব্যক্তির অভিযোগ, গাড়ি পাওয়া যায়নি। অনেকে বলেছেন, বহুক্ষণ অপেক্ষার পর গাড়ি মিলেছে। প্রায় তিনগুণ বেশি ভাড়া দাবি করেছে।
যাদবপুরের বাসিন্দা দেবাশিস দাস বলেন, ‘অ্যাপ ক্যাব বাইপাস যেতে সকাল থেকেই ৬০০ টাকার উপর ভাড়া দেখিয়েছে।’ সল্টলেকের বাসিন্দা শ্রাবন্তী সেনগুপ্ত রুবির কাছে একটি স্কুলে পড়াতে যান। বলেন, ‘সাড়ে তিনটে থেকে ক্যাব বুক করার চেষ্টা করছিলাম। অন্যান্য দিনের তুলনায় দ্বিগুণ কখনও তিনগুণ বেশি ভাড়া দেখাচ্ছিল। তারপর ক্যাব বুক হলেও কেউ আসেননি।’ সিআইটিইউ নেতৃত্বের দাবি, প্রায় ৭০০ অ্যাপ ক্যাব মৌলালির রামলীলা পার্ক থেকে পরিবহণ ভবন পর্যন্ত মিছিল করেছে। কলকাতা ওলা-উবের অ্যাপ ক্যাব অপারেটরস অ্যান্ড ড্রাইভারস ইউনিয়নের সম্পাদক নিখিল মাইতি বলেন, ‘আমরা দপ্তরের অতিরিক্ত সচিবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমাদের দাবি, পেট্রল তো এখন ই ২০। তবুও তেলের দাম তো কমছে না। তার উপর এই তেল ব্যবহার করে গাড়ি খারাপ হচ্ছে। ফলে মাইলেজ কমছে। তারপর সিএনজি পাম্পে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েও থাকতে হয়। এই অবস্থা হলে চালকদের চলবে কী ভাবে?’
এদিন হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে অ্যাপ ক্যাবের দেখা মেলেনি। এর সুযোগ নিয়ে প্রাইভেট গাড়ির চালকদের একাংশ অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠছে। দিব্যেন্দু দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি জানান, হাওড়া থেকে বাঘাযতীন যেতে ৮০০ টাকা চেয়েছে। তারপরও অ্যাপে ক্যাব বুক করতে পারা যায়নি।’ অন্যদিকে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া চালকদের দাবি, ভাড়া কমিয়ে দেওয়া সহ একাধিক সমস্যার প্রতিবাদেই তাঁরা ধর্মঘটে সামিল হয়েছেন। প্রাইভেট গাড়ির অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া বা দালালরাজ রুখতে পুলিশের নজরদারি চোখে পড়েনি বলেও অভিযোগ। কলকাতায় এদিন শাটল গাড়ি চালকদের দাপট চোখে পড়েছে। ক্যাব না থাকার কারণে অনেকেই শাটল গাড়িতে কর্মস্থলে গিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, অন্যান্য দিন ৪০ টাকা দিতে হত। সোমবার ৭০ থেকে ১০০ টাকা দিতে হয়েছে।