


তেহরান: ‘বদলা চাই, বদলা চাই! আমেরিকার মৃত্যু চাই।’ হাজার হাজার মানুষের গর্জনে কেঁপে উঠল তেহরানে গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স। শুক্রবার ইরানের এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদে নিয়ে আসা হয় প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দেহ। শুরু হয় শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পালা। তবে সরকারিভাবে শনিবার থেকেই শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। কাচের কেসের মধ্যে রাখা হয়েছে খামেনেইয়ের কফিন। পাশে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত খামেনেই পরিবারের অন্য সদস্যদের দেহও। এদিন হাজারে হাজারে মানুষ প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতাকে চিরবিদায় জানাতে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আসতে শুরু করেন। বেশিরভাগের হাতে আয়াতোল্লার ছবি দেওয়া ব্যানার ও লাল পতাকা। যা আদতে প্রতিশোধের প্রতীক। কিছু পতাকায় স্লোগান, ‘কিল ট্রাম্প’।
খামেনেইয়ের কফিন দেখে বুক চাপড়ে কাঁদতেও দেখা গিয়েছে অনেককে। ইরানের প্রশাসন সূত্রে খবর, সবমিলিয়ে শেষকৃত্যে জনসমাগমের সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যাবে। তীব্র গরম থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দিতে জল ছেটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিড় সামলাতে রাজধানীর বেশিরভাগ রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বন্ধ ইরানের এয়ারস্পেসও। তবে, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বাবার শেষকৃত্যে আসবেন কি না, স্পষ্ট নয়। খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান ৪ জুলাই শুরু করে আদতে তেহরান আমেরিকাকে বার্তা দিতে চেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ২৫০ বছর আগে ওইদিনই দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল আমেরিকা। যদিও এই বিষয়ে ইরান প্রশাসনের তরফে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এদিনও ইরানের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাউথ ডাকোটায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানকে দুরমুশ করে দিয়েছি।’ খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, ‘ওরা মরিয়া হয়ে গিয়েছিল। তাই শেষকৃত্যের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি।’