


তেহরান, ৫ জুলাই: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে সামিল হয়েছেন সে দেশের সেনার শীর্ষ আধিকারিকরা, রয়েছেন নেতার ভাইয়েরাও। উপস্থিত ছিলেন পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ এবং সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচিও। রাস্তায় ছিল অগুন্তি মানুষের ভিড়। শোকাতুর অনেকের হাতেই দেখা গেল আলি খামেনেইয়ের ছবি। অশ্রুসিক্ত অবস্থায় রাস্তায় হেঁটে চলেছেন তাঁরা। কিন্তু অদ্ভূতভাবেই দেখা গেল না আলি খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবাকে। অনেকের ধারণা তিনি জখম বলে আসতে পারেননি। আবার কিছু মানুষের অনুমান, অতর্কিত হামলার আশঙ্কায় আপাতত গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন তিনি। তবে আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন মুলুক বা ইরান কেউই কোনও ধরণের হামলায় জড়াবে না। আপাতত এক সপ্তাহ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর বজায় থাকবে বলেই জানা গিয়েছে। আগামী ৯ জুলাই আলি খামেনেইকে সমাহিত করা হবে। তার আগে তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাষ্ট্রীয় শোকের অনুষ্ঠান এবং শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রক্রিয়া চলছে।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই মন্তব্য প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আমি তো ভাবতাম ইরানের জনগণ খামেনেইকে ঘৃণা করত। কিন্তু শেষকৃত্যের সময় ওদের কাঁদতে দেখে বেশ অবাক হয়েছি। এগুলি আসলে কুমিরের কান্না। পাশাপাশি ট্রাম্প বলেছেন, ওরা সকলেই এক জায়গায় রয়েছেন। কাজেই খুব সহজেই তাঁদের খতম করে দেওয়া যায়। কিন্তু আমরা আপাতত তা করব না। কারণ, এটা করলে আলোচনার জন্য আর কেউ জীবিতই থাকবে না। ইরান এখন চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে মার্কিন চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে ইতিমধ্যেই তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে টোল নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। নির্দিষ্ট হারে সেই ফি নেওয়া হবে। গতকাল অর্থাৎ শনিবার একথা জানিয়েছেন, চিনের ইরানি রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন ইরানের বন্ধু দেশগুলিকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলাকালীন ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া চুক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, আগামী ৬০ দিন হরমুজ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ-ট্যাঙ্কার চলাচল করতে পারবে। নেওয়া হবে না কোনও ফি। কিন্তু রহমানি ফাজলি এই বক্তব্যের পর স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ বা ট্যাঙ্কারগুলিকে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে ইরান প্রশাসনকে। তেহরান অবশ্য জানিয়েছে, এই ফি আদতে কোনওরকম টোল নয়। হরমুজ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত এবং জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তদারকির জন্য পরিষেবা বাবদ এটি নেওয়া হবে। আমেরিকা ও ইরানের চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ৬০ দিন পণ্যবাহী জাহাজ-ট্যাঙ্কারগুলি কোনও ফি না দিয়েই প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু তারপর দিতে হবে ফি। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে ওমানের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথাবার্তাও বলেছে তেহরান। উল্লেখ্য, হরমুজে টোল বসানো নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে মার্কিন প্রশাসন। এমনকী ইরানকে এই বিষয়ে নিয়ে একাধিকবার হামলার হুমকিও দিয়েছেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোটা সভ্যতা মুছে ফেলা হবে এই হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।