


ডায়মন্ডহারবার এফসি- ১ : মোহন বাগান- ৫
(লুকা) (অনিরুদ্ধ, জেমি, লিস্টন, সাহাল, কামিংস)
শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ‘দেশটা কারোর বাপের নয়, নয়তো জাতের খেলা। এই বাঙালি ঘুচিয়েছিল, পরাধীনতার জ্বালা।’ মোহন বাগান গ্যালারির বিশাল ব্যানার ফ্লাডলাইটের আলোয় আরও ঝলমলে। বাঙালি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর শনিবারও আছড়ে পড়ল যুবভারতীতে। গ্যালারির মেজাজের মতো টগবগ করলেন লিস্টনরাও। ফাইভ স্টার পারফরম্যান্সে দিশাহারা প্রতিপক্ষ। ডায়মন্ডহারবার এফসি’কে হেলায় হারিয়ে ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে মোহন বাগান। দুই স্প্যানিশ কোচের দ্বৈরথেও বাজিমাত হোসে মোলিনার। সাবমেরিনের গোলায় হুড়মুড়িয়ে ডুবল কিবুর সাধের টাইটানিক। রক্ষণের মতো কিবুও বিপর্যস্ত। তাঁর বোঝা উচিত, মুড়ি আর মিছরির এক দর হতেই পারে না। এই হারের ফলে নক-আউট অনিশ্চিত ডায়মন্ডহরবারের। অন্য দলের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই।
গ্রুপে প্রথম দু’টি ম্যাচেই সহজ জয় পায় ডয়মন্ডহারবার এফসি। গোলপার্থক্যেও এগিয়ে ছিল কিবুর দল। অন্যদিকে, সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছতে গেলে মোহন বাগানের প্রয়োজন তিন পয়েন্ট। তাই হোসে মোলিনার ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে তাগিদ ছিল স্পষ্ট। চেটের কারণে মনবীর, সুহেলদের পাননি স্প্যনিশ কোচ। তবু গুটিয়ে না থেকে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক লিস্টনরা। ১৪ মিনিটে সাহালের পাস থেকে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন ম্যাকলারেন। কিন্তু অজি তারকার শট প্রতিপক্ষ গোলকিপারের হাতে জমা পড়ে। এর পাঁচ মিনিট পরেই কাঙ্ক্ষিত গোলের সন্ধান পায় পালতোলা নৌকা। ছোট পাসে আাক্রমণ গড়তে গিয়ে মারাত্মক ভুল করে বসে ডায়মন্ড ডিফেন্স। গোলরক্ষক ও রক্ষণের ভুল বোঝাবুঝির মাশুল দিতে হল গোল হজম করে। এক্ষেত্রে সাহালের পাস ধরে বক্সের গোড়া থেকে নেওয়া শটে জাল কাঁপান অনিরুদ্ধ থাপা (১-০)। তবে মোহন বাগান সমর্থকদের উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৪ মিনিটে ডায়মন্ডহারবারকে সমতায় ফেরান লুকা মাচেন। এক্ষেত্রেও আশিস রাই ও দীপক টাংরির শিশুসুলভ ভুলই দায়ী। হেলতে দুলতে ফাঁকায় বিশালকে পরাস্ত করেন লুকা (১-১)। সবুজ-মেরুন দুর্গ টলিয়ে বোধহয় অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিল ডায়মন্ড। সম্বিৎ ফেরার আগেই বিপর্যয়। মাঝমাঠে বল স্ন্যাচ করে ম্যাকলারেনকে পাস বাড়ান সাহাল। সদ্য প্রি-সিজন শুরু করেছেন অজি বিশ্বকাপার। পুরো ম্যাচ ফিট নন। গতিতে পারবেন না বুঝেই শরীর ছুড়ে টোকা দিলেন। বিপক্ষ গোলকিপারকে পরাস্ত করে জালে জড়াল বল (২-১)।
বিরতির পরেও ডায়মন্ডহারবারকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করল মোহন বাগান। ৫০ মিনিটে গতি বাড়িয়ে বক্সে ঢোকার মুখেই লিস্টনকে ফাউল করেন নরেশ সিং। পেনাল্টির সঙ্গে মার্চিং অর্ডারের নির্দেশ দেন রেফারি। এক্ষেত্রে ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ লিস্টনের (৩-১)। চলতি টুর্নামেন্টে এটি তাঁর পঞ্চম গোল। কিবুর দলের যাবতীয় জরিজুরি এখনেই শেষ। ৬৪ মিনিটে চতুর্থ গোল সাহালের (৪-১)। এই পর্বে বিপক্ষ ডিফেন্সকে ধুতরো ফুল দেখালেন কামিংস, লিস্টন, সাহালরা। ৮০ মিনিটে বাঁ পায়ের স্ন্যাপ শটে জাল কাঁপালেন কামিংস (৫-১)।
মোহন বাগান: বিশাল, আশিস, আলড্রেড, দীপক, অভিষেক, অনিরুদ্ধ থাপা, আপুইয়া (সূর্যবংশী), সাহাল, পাসাং (লেওয়ান), লিস্টন (করণ) ও ম্যাকলারেন (কামিংস)।