


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অসমান বাউন্সে ভরা চাপড়া ঘাসের মাঠ। সামান্য এদিক-ওদিক হলে চোট পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। স্লাইড ট্যাকল করা আত্মহত্যার শামিল। তুর্কমেনিস্তানের প্র্যাকটিস মাঠ দেখে অস্কার ব্রুজোঁর মাথায় হাত। মূল স্টেডিয়াম নিয়েও একরাশ অভিযোগ। ইস্ট বেঙ্গল বনাম আর্কাদাগ ম্যাচ দিয়েই এই স্টেডিয়ামের উদ্বোধন হচ্ছে। ফুটবলারদের নিয়ে সেখানে হাঁটতে গিয়েছিলেন অস্কার। অবস্থা দেখে স্প্যানিশ কোচের আক্কেল গুড়ুম। বলের দখল রেখে পাস খেলাই সমস্যার। তবে অজুহাতের জায়গা নেই। বুধবার এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে ফিরতি পর্বে আর্কাদাগের বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গলকে এই স্টেডিয়ামেই খেলতে হবে। যুদ্ধের আগে সমস্যায় জর্জরিত ইস্ট বেঙ্গল।
তুর্কমেনিস্তানের আসগাবাতে ইস্ট বেঙ্গলের টিম হোটেল। বিমানবন্দরে অভিবাসন দপ্তরের ঝক্কি মেটাতেই আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। বিমানবন্দর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের আর্কদাগ কার্যত ক্লোজড সিটি। স্টেডিয়াম থেকে মেরেকেটে তিন মিনিটের দূরত্ব। হোটেল থেকে বেরনো নিষেধ। বিদেশি পর্যটক নেই। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্যের কথায়, ‘চারপাশ থমথমে। সন্ধ্যার পর কার্যত জনমানবশূন্য এলাকা। গা ছমছম করবে।’ হোটেলের লাউঞ্জে বেশিক্ষণ বসার উপায় নেই। জানা গেল, টিম হোটেলে ইন্টারনেটের সমস্যা ছিল। বিস্তর কাঠখড় পুড়িয়ে কিছুটা সুরাহা হয়েছে। কোনওরকমে ম্যাচ খেলে ভারতে ফিরতে পারলে বাঁচেন ফুটবলাররা।
প্রথম পর্বে যুবভারতীতে ১-০ গোলে ম্যাচ জেতে আর্কাদাগ। অর্থাৎ না জিতলেই ইস্ট বেঙ্গলের বিদায়। আইএসএলে অভিযান শেষ। খড়কুটোর আঁকড়ে ধরার মতো এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে সাফল্য পেতে বদ্ধপরিকর স্প্যানিশ কোচ। সিনিয়রদের তরতাজা রাখতে আইএসএলের শেষ ম্যাচে জেসিন, সুমনদের সুযোগ দেন অস্কার। কিন্তু ম্যাচের তিনদিন আগে পৌঁছেও প্রস্তুতিতে খামতি থেকেই যাচ্ছে। এদিকে, আইএসএলের ম্যাচ খেলে সোমবার গভীর রাতে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ক্লেটন, বিষ্ণু, ডেভিডদের। সেক্ষেত্রে ম্যাচের আগের দিন তাঁরা অনুশীলন করবেন। সূত্রের খবর, মেগা ম্যাচে জোড়া বিদেশি স্ট্রাইকারেই দল সাজাবেন অস্কার। দ্রুত লক্ষ্যভেদ চাই। বিবর্ণ দিয়ামানতাকোসের উপর ভরসা রাখা ছাড়া উপায় নেই।