


ইস্ট বেঙ্গল- ১ : কেরল ব্লাস্টার্স- ১
(ইউসেফ-পেনাল্টি) (আদসাল)
শিবাজী চক্রবর্তী,কলকাতা: খারাপ, আরও খারাপ, আর তারপরেই অস্কারের ইস্ট বেঙ্গল। ৪ ম্যাচে হারের পর কেরলকে পয়েন্ট উপহার দিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। অজুহাতের দিন শেষ। ক্লাবের ও নিজের মান বাঁচাতে অবিলম্বে দেশে ফেরা উচিত ব্রুজোঁর। যুবভারতীতে টানা তিনটি ম্যাচে জয় পেল না অস্কারের দল। শনিবার লিড নিয়েও কেরলের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর ‘গো ব্যাক অস্কার’ স্লোগান উঠল। বছরের পর বছর যায়। ইস্ট বেঙ্গল পাল্টায় না। এদিনের পর ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ইস্ট বেঙ্গল। সমসংখ্যক ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে ১২ নম্বরে কেরল ব্লাস্টার্স।
শেষ দুই ম্যাচে জয় নেই। এদিন ৩ পয়েন্ট না পেলে চ্যাম্পিয়নশিপের আশা কার্যত শেষ। তার উপর ম্যাচের আগে অহেতুক বিতর্কিত কথা বলে বাজার গরম করেছিলেন অস্কার। ম্যাচে তার কোনও প্রভাব পড়বে না তো? দুরুদুরু বুকে গ্যালারিতে হাজির সমর্থকরা। কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে টিম লিস্ট দেখে অনেকেই অবাক। ৪-৫-১ ফর্মেশনে পি ভি বিষ্ণুকে অনভ্যস্ত লেফট উইং ব্যাকে খেলালেন স্প্যানিশ কোচ! তবে ম্যাচের প্রারম্ভিক পর্বে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় ইস্ট বেঙ্গল। ১০ মিনিটে রশিদের পাস ধরে ডানদিক থেকে ছোট্ট মাইনাস করেছিলেন এডমুন্ড। ছ’গজের বক্সে ইউসেফকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইস্ট বেঙ্গল। স্পটকিক কাজে লাগাতে ভুল করেননি ইউসেফ (১-০)। তবে পেনাল্টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ কেরল শিবিরে। কোচের দাবি, আগেই অফসাইডে ছিলেন ইউসেফ। অনেকেই ভেবেছিলেন, লিড নেওয়ার পর কেবলে থাকা কেরলকে ছিঁড়ে খাবে লাল-হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু শ্লথ ফুটবল বিরক্তি বাড়াল। দীর্ঘদিন পর দল ফেরা সাউল ক্রেসপো নজর কাড়তে ব্যর্থ। কবে খেলেন, কবে চোট পান গবেষণার বিষয়। প্যালেস্তাইনের রশিদের গতি কচ্ছপের মত। পাশাপাশি জোনাল মার্কিয়ে হাঁসফাঁস করলেন মিগুয়েল। ফলে মাঝমাঠে খেলাই তৈরি হল না। ১৭ মিনিটে টপ বক্স থেকে সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েও উড়িয়ে দিলেন সাউল। বিরতির আগে মিগুয়েলের রক্ষণচেরা পাস ধরে রশিদও তেকাঠিতে রাখতে ব্যর্থ। অন্যদিকে, কর্নার থেকে দুরন্ত হেড নিয়েছিলেন কেরলের ফালউ। সেনেগালের স্টপারের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ডানপ্রান্তে ফ্রান্সের কেভিন ইয়কও ঝাপটা দিতেই চাপ বাড়ল ইস্ট বেঙ্গল রক্ষণে।
প্রথমার্ধে ব্লকিংয়ের সমস্যা ছিল মাঝমাঠে। বিরতির পর ন্যাতানো সাউলকে তুলে শৌভিককে নামান অস্কার। এইসব ক্ষেত্রে চাপ কমাতে ব্যবধান বাড়ানো জরুরি। মিগুয়েলরা চেষ্টা করলেও লাভের লাভ হয়নি। এডমুন্ডের পাস ছ’গজের মধ্যে পুশ করতে ব্যর্থ ইউসেফ। গোল তো এলই না,উলটে উইং থেকে ঝাঁঝ বাড়াল কেরল। বিশেষ করে ফরাসি কেভিনকে আটকাতে হিমশিম খেল ইস্ট বেঙ্গল। কুৎসিত ফুটবলের প্রদর্শনী। সংযোজিত সময়ে গোল শোধ কেরলের। কর্নার থেকে অরক্ষিত আদসাল গোল করে গেলেন (১-১)। এই গোলের দায় এড়াতে পারেন না শৌভিক চক্রবর্তী। ম্যাচের আগে প্রয়াত ফেডারেশন সচিব কুশল দাসের স্মৃতিতে নীরবতা পালন করা হয়।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, রাকিপ, জিকসন, আনোয়ার, বিষ্ণু, সাউল (শৌভিক), রশিদ, মিগুয়েল, বিপিন (মহেশ), এডমুন্ড (জয়) ও ইউসেফ।