


চেন্নাইয়ান এফসি- ১ : ইস্ট বেঙ্গল- ৩
(ইরফান) (এডমুন্ড, বিপিন, নন্দ)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রয়াত সুভাষ ভৌমিক বলতেন, ম্যাচ জিততে চান্স ফ্যাক্টরের সঙ্গে ভাগ্যও জরুরি। কথাটা নির্ভেজাল সত্য। শনিবারের বারবেলায় ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেও চেন্নাইয়ানকে ৩-১ গোলে বশ মানাল ইস্ট বেঙ্গল। অস্কার ব্রুজোঁর উচিত লটারির টিকিট কাটা। একাধিক ভুল সিদ্ধান্তে ম্যাচ প্রায় উপহার দিয়েছিলেন বিপক্ষকে। শেষ পর্যন্ত সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল মশালবাহিনী। আপাতত ৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট মিগুয়েলদের। খাতায়-কলমে চ্যাম্পিয়নশিপের আশা জিইয়ে রইল। তবে অস্কারের তুঘলকি আচরণে সমর্থকরাই বিরক্ত। দিনের অপর ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমকে দিল কেরল ব্লাস্টার্স। এর ফলে ৮ ম্যাচে সুনীলদের পয়েন্ট ১৪। একইসঙ্গে গোলপার্থক্যে মোহন বাগান ও বেঙ্গালুরুকে টপকে তৃতীয় স্থানে উঠল ইস্ট বেঙ্গল। এদিন বেঙ্গালুরুর বিদেশি মিডিও স্যাঞ্চেজ লাল কার্ড দেখেন। পরের ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলের বিরুদ্ধে নেই তিনি।
ম্যাচের আগে টিম লিস্ট দেখে অনেকেই অবাক। অস্কারের প্রথম একাদশে কোনও স্ট্রাইকার নেই। ইউসেফ রইলেন বেঞ্চে। হঠাৎ করে তিন ডিফেন্ডারে খেলার যুক্তি বোঝা দায়। সিবলে, জিকসন, আনোয়ার এক লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লেন একাধিকবার। আসলে অহেতুক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় হেঁটে জট পাকালেন স্প্যানিশ কোচ। তবুও ৭ মিনিটে লিড পায় ইস্ট বেঙ্গল। সাউল ক্রেসপোর থ্রু পাস ধরে জাল কাঁপাতে কোনো অসুবিধা হয়নি এডমুন্ডের (১-০)। অনেকেই ভেবেছিলেন, শুরুতে গোল পাওয়ায় আরও চাপ বাড়াবে ইস্ট বেঙ্গল। অথচ হল ঠিক উলটো। মিগুয়েলকে উইংয়ে ঠেলে দিলেন অস্কার। ফলে মাঝমাঠে দানা বাঁধেনি খেলা। এডমুন্ড, বিপিনরা বক্স স্ট্রাইকার নন। সেটা বুঝেও ভুল শোধরালেন না স্প্যানিশ কোচ। চেন্নাইয়ানকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দিলেন তিনি। ১৯ মিনিটে ফারুখের সেন্টার থেকে ইরফানের হেড পোস্টে প্রতিহত হয়। এর ১০ মিনিট পরেই দলকে সমতায় ফেরান ইরফান। হাইলাইন রক্ষণকে বোকা বানিয়ে গিলের মাথার উপর দিয়ে বল টপকে দেন ইরফান (১-১)। এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল মিগুয়েলদের সামনে। একা বিষ্ণুই দু’টি সিটার নষ্ট করলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আনোয়ারের পুরানো চোট মাথাচাড়া দেয়। পরিবর্তে নন্দকে নামালেন অস্কার। এই পর্বে ড্যানিয়েল চিমা, ইরফানের বদলে ভালো মানের স্ট্রাইকার থাকলে লিড নিতে পারত চেন্নাই। ঢেউয়ের মতো আক্রমণে আছড়ে পড়ল সিবলেদের উপর। এমন পরিস্থিতিতেই বিপিনের গোলে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল। ৮২ মিনিটে বিষ্ণুর সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে লক্ষ্যভেদ তাঁর (২-১)। সংযোজিত সময়ে মিগুয়েলের পাস ধরে জমি ঘেষা শটে তৃতীয় গোল নন্দকুমারের (৩-১)। তবে মহেশের চোটে উদ্বিগ্ন থিঙ্কট্যাঙ্ক। ম্যাচ দেখতে চেন্নাইতে হাজির ছিলেন শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। তাঁর মন্তব্য, ‘পরের ম্যাচে সামনে বেঙ্গালুরু এফসি। আরও সতর্ক হওয়া উচিত।’
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, রাকিপ, আনোয়ার (নন্দ), কেভিন, বিষ্ণু, সাউল (ইউসেফ), জিকসন, রশিদ (সোয়বার্গ), বিপিন, এডমুন্ড (মহেশ, শৌভিক) ও মিগুয়েল।