


সুকান্ত বেরা, কলকাতা: বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ। গোটা মাঠ ঢাকা। হাজার তিরিশ দর্শক চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আকাশের দিকে। আচমকা তাঁদের নজর ঘুরল ক্লাব হাউসের পাশে ‘বি’ ব্লকের উপর প্ল্যাটিনাম লাউঞ্জ বক্সের দিকে। কাছাকাছি যাঁরা বসেছিলেন, অধিকাংশই তাক করে রয়েছেন মোবাইল ফোন। জ্বলছে ফ্ল্যাশ। ফোকাস যে কার দিকে, বুঝতে অসুবিধা হল না। তার মধ্যেই জায়ান্ট স্ক্রিনের পর্দায় ভেসে উঠলেন তিনি— শাহরুখ খান। পরনে কেকেআরের সাদা জার্সি, মাথায় বেগুনি টুপি। তিনিই যে কেকেআরের অঘোষিত ‘নন প্লেয়িং ক্যাপ্টেন’। গত দু’টি ম্যাচে মাঠে ছিলেন না শাহরুখ। ব্যস্ত ছিলেন শ্যুটিংয়ে। কিন্তু পর পর দুই ম্যাচ হেরে দল বিপাকে। অগত্যা কাজকর্ম ফেলে বিশেষ বিমানে উড়ে এলেন কলকাতায়। বার্তাটা আগেই পৌঁছেছিল নাইট শিবিরে। ইডেনে রাহানেদের হয়ে গলা ফাটাতে কিং খানের সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন মেয়ে সুহানাও। ক্রিকেটারদের উদ্দীপ্ত করতে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া হর্ষিত রানাকেও ডেকে নেওয়া হয়েছিল সকালেই।
ঘরের মাঠে শাহরুখের আবির্ভাব পর্বটা অবশ্য সুখের হল না। স্কোরবোর্ড বলছে, কেকেআর ২৫-২, মাত্র ৩.৪ ওভারে। একে একে ফিরে গিয়েছেন ২৫ কোটির ক্যামেরন গ্রিন ও ওপেনার ফিন অ্যালেন। এমন দৃশ্য দেখতে কারই বা ভালো লাগে! হতাশ শাহরুখও। পাশে দাঁড়ানো দলের সিইও বেঙ্কি মাইসোরকে হাত নেড়ে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন কিং খান। তাঁর চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট। টানা দু’টি হারের পর সেটাই স্বাভাবিক। আবার এদিন পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে আগে ব্যাট করতে নেমে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া দেখেও বিরক্ত বাদশা। বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও টস জিতে ক্যাপ্টেন রাহানের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত সত্যিই বিস্ময়কর। দীর্ঘক্ষণ ঢাকা থাকা পিচে বাড়তি আর্দ্রতা যে থাকবে, সেটা আর নতুন কী! সেই সুযোগটাই কাজে লাগালেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের পেসার বার্টলেট।
রাত বাড়ল। পাল্লা দিয়ে বাড়ল বৃষ্টিও। সঙ্গে প্রবল ঝড়। ভিআইপি বক্স থেকে বেরিয়ে আকাশের দিকে উঁকি দিলেন কিং খান। হাত নাড়লেন দর্শকদের দিকে। বৃষ্টিস্নাত ইডেন উদ্বেলিত হল কিং খান দর্শনে। এটাই তাঁদের সান্ত্বনা। ক্লাবহাউসের আপার টিয়ারে পুলিশের ব্যারিকেড ঠেলে উঁকি মারার সুযোগ পেয়ে যুবতীও আনন্দে লাফিয়ে উঠলেন। যেন স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মূহূর্ত। খেলা হোক বা না হোক, তা নিয়ে কোনও হেলদোল নেই। উচ্ছ্বাসে ব্রেক কষে তরুণী বললেন, ‘শাহরুখকে দেখার জন্যই তো মাঠে আসা।’
ইডেনে তখন একটাই সুর, ‘ঘোড়ি জ্যাইসি চাল, হাতি জ্যাইসি দুম, ও শাবন রাজা, কাঁহা সে আয়ে তুম...।’