


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের লোধাশুলি এলাকায় হাতির তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাতে দশ-বারোটি বাড়ির জানলা, দরজা ভাঙচুর করেছে হাতির পাল। গোলবান্ধি অঙ্গনওয়াড়ির দরজা ভেঙে তিন বস্তা চাল খেয়ে গিয়েছে। হাতির তাণ্ডবে প্রাথমিক স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিকেলের পর থেকে হাতির পাল গ্ৰামে ঢুকছে। জঙ্গল ঘেরা গ্ৰামের মানুষ প্রবল আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
জঙ্গল এলাকায় পর্যাপ্ত খাবারের অভাব। জমি থেকে ফসল তুলে নেওয়া হয়েছে। আম, কাঁঠাল ও কাজুর বাগানে ফেন্সিং দেওয়া। ফলে খাবারের সন্ধানে মরিয়া হয়ে হাতির পাল গ্ৰামে ঢুকছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। গ্ৰামের মানুষ রাতে ঘরে থাকতে ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয় কোনো পাকা বাড়িতে চাল ও অন্যান্য খাবার রেখে আসছেন। স্থানীয় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে। বড়াশুলির জঙ্গলে একটি হাতি বনবিভাগের টহলদারির গাড়ির ওপর হামলা চালিয়েছিল। বনবিভাগের ১২ জন কর্মী অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন। এইসব ঘটনায় সামনে আসছে যে, বনবিভাগের পর্যাপ্ত কর্মী নেই। সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় বনকর্মীরাই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বনবিভাগ হাতির করিডরে এআই পরিচালিত ক্যামেরাও বসিয়েছে। শহর লাগোয়া বান্দরভুলা বিট অফিসের মনিটরিং কেন্দ্রের টিভিগুলি বিকল হয়ে পড়ে থাকার খবরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। জামবনী ব্লকের গিধনি রেঞ্জে কোটি টাকা ব্যয়ে হাতির আশ্রয়স্থল গড়ে তোলা হয়েছিল। ময়ুরঝর্না এলিফ্যান্ট প্রজেক্ট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। চলতি বছরে হাতির হানায় মৃত্যুর সংখ্যা সাত। বড়াশুলি, গোলবান্ধি, লাউদিহা জঙ্গল থেকে হাতির পাল মানিকপাড়া রেঞ্জের গ্ৰামগুলিতে হানা দিচ্ছে। বনবিভাগের কর্মীর অভাবে ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। হাতির হানায় প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ছে। মানিকপাড়া এলাকার বাসিন্দা কমল মাহাতো বলেন, বিকেল হলেই গোলবান্ধির জঙ্গল থেকে হাতির পাল গ্ৰামে হানা দিচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে এলাকার দশটা বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। প্রাথমিক স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জানলা দরজাও হাতির পাল ভেঙে দিয়েছে। আমার বাড়িতেও হাতির দল হামলা চালায়। হাতির পাল যদি খাবার না পায় তাহলে আক্রমণ বাড়বে। গোলবান্ধি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দিদিমণি অনিতা মজুমদার এদিন বলেন, দু’-তিন বস্তা চাল ছিল। কেন্দ্রের দরজা জানলা ভেঙে চাল খেয়ে নিয়েছে। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের এক আধিকারিক বলেন, এলাকায় বনবিভাগের কর্মীদের পাঠানো হয়েছে।