


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কর্মসংস্থান ভিত্তিক উৎসাহ ভাতা (এমপ্লয়মেন্ট লিঙ্কড ইনসেন্টিভ বা ইএলআই) কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ হাজার টাকা করেই বছরে দু’বার কিস্তি মিলবে। কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও) আওতাভুক্ত দেশের কোনও বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের প্রথমবারের কর্মীই শর্তসাপেক্ষে তা পাবেন। আপাতত এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে শ্রমমন্ত্রক। কিন্তু কোনও বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বেতন কাঠামোর কর্মীদের আলাদা করা হবে কীসের ভিত্তিতে? বর্তমানে এই প্রশ্নকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে প্রবল ধোঁয়াশা। গত ১ জুলাই কর্মসংস্থান ভিত্তিক এই উৎসাহ ভাতা কর্মসূচিতে অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। কিন্তু সেই অনুমোদনের পর প্রায় চারদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ দিশাহীন শ্রমমন্ত্রকের আওতাভুক্ত ইপিএফও। সংশ্লিষ্ট স্কিমের চূড়ান্ত দিশানির্দেশ তৈরি করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে মন্ত্রকের আধিকারিকদের।
তবে শ্রমমন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক শুক্রবার জানিয়েছেন যে, পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যেই এই ব্যাপারে যাবতীয় নির্দেশিকা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। যাবতীয় ধোঁয়াশা এবং সংশয় কেটে যাবে। কোনও বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাসে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতনপ্রাপ্ত প্রথমবারের কর্মীরা শর্তসাপেক্ষে এক বছরের জন্য এই উৎসাহ ভাতা পাবেন। দু’টো কিস্তিতে এর সর্বোচ্চ পরিমাণ হবে ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, যা এই মুহূর্তে ইপিএফের আওতায় থাকার জন্য মাসের নির্ধারিত বেতনসীমা। কিন্তু প্রথমবারের প্রত্যেক কর্মীর বেতন কাঠামো যেহেতু এক নয়, তাই স্বাভাবিক কারণেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের স্বীকৃতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাও দু’বছরের জন্য মাসে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা পর্যন্ত উৎসাহ ভাতা পাবে। তবে উৎপাদন ক্ষেত্রের জন্য তা মিলবে চার বছরের জন্য। সংস্থা কর্তৃপক্ষের জন্য ইএলআই স্কিমে উৎসাহ ভাতা প্রদানের মাপকাঠি অবশ্য ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করেছে শ্রমমন্ত্রক। অতিরিক্ত নিযুক্ত কর্মীর বেতন যদি মাসে ১০ হাজার টাকার মধ্যে হয়, তাহলে নিয়োগকর্তা পাবেন এক হাজার টাকা করে। মাসিক বেতন ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে হলে সংস্থা কর্তৃপক্ষ মাসে উৎসাহ ভাতা পাবে দু’হাজার টাকা করে। এবং নতুন নিযুক্ত কর্মীর বেতন মাসে ২০ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকার মধ্যে হলে মাসিক তিন হাজার টাকা করে উৎসাহ ভাতা পাবে মালিকপক্ষ। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রমমন্ত্রক।