


ইংল্যান্ড-২ : নরওয়ে-১
(বেলিংহ্যাম-২) (শেলডেরুপ)
দেবজিৎ ঘোষ: আর্লিং হালান্ড নিষ্প্রভ। কিন্তু মুগ্ধ করল জুড বেলিংহ্যাম। পিছিয়ে পড়েও নরওয়ের বিরুদ্ধে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ইংল্যান্ডের। ২-১ ব্যবধানে জয়ে বেলিংহ্যামই অবিসংবাদিত নায়ক। ২০১৮-র পর ফের বিশ্বকাপের শেষ চারে থ্রি লায়ন্স। সেমি-ফাইনালে টুচেল ব্রিগেডের সামনে মেসির আর্জেন্তিনা। হ্যারি কেন, বুকায়ো সাকাদের বিপক্ষে স্কালোনির দলের অগ্নিপরীক্ষা।
৬০ বছর আগে বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। তারপর হতাশাই সঙ্গী ববি চার্লটনের দেশের। বিশ্বকাপের আগে ব্রিটিশ ট্যাবলওয়েডগুলিতে ফুটবলারদের নিয়ে বীরপুজোর ধারা চিরকালীন। অথচ মোক্ষম সময়ে মুখ থুবড়ে পড়াই ট্রেন্ড। পল গাসকোয়েন থেকে ডেভিড বেকহ্যাম। দেশকে বিশ্বকাপ দিতে পারেনি কেউই। তবে টমাস টুচেল সমর্থকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। মায়ামিতে জার্মান কোচের পাতা ফাঁদে ধরা পড়ল হালান্ড। একইসঙ্গে নরওয়ের সোনার দৌড়ের সমাপ্তি। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন টুচেল। ব্রাজিলের মতো ভুল ইংল্যান্ড করেনি। ম্যাঞ্চেস্টার সিটিতে হালান্ডের দুই সতীর্থ স্টোন্স ও গুয়েহি। দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকারের দুর্বলতা তারা জানে। সারা ম্যাচে সেভাবে স্পেসই পায়নি হালান্ড। একটি ক্ষেত্রে হেড জমা পড়ে পিকফোর্ডের হাতে। কিন্তু প্রবল প্রতিপক্ষকে বশ মানাতে তা যথেষ্ট নয়। যাই হোক, ঘর গুছিয়ে প্রতি-আক্রমণ ছিল নরওয়ের স্ট্র্যাটেজি। শুরু থেকেই মাঝমাঠে প্রচুর পাস খেলল ইংল্যান্ড। কিন্তু বিপক্ষের অ্যাটাকিং থার্ডে আটকে যাচ্ছিলেন কেনরা। উলটে কিছুটা খেলার গতির বিরুদ্ধে লিড পায় সোলবাকেনের দল। ৩৬ মিনিটে শেলডেরুপের গোল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। বাঁ পায়ের শট পিকফোর্ডকে হতচকিত করে সেকেন্ড পোস্টে আছড়ে পড়ে (১-০)। শেলডেরুপকে কুর্নিশ। ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল এরপরেও। সরলোথ যদি অরক্ষিত হালান্ডকে বল দিত, তাহলে বিপদ ঘটতেই পারত। যাইহোক, বিরতির আগে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। টপ বক্সে বল ধরে একার কৃতিত্বে দুরন্ত ফিনিশ বেলিংহ্যামের (১-১)। গোলের পরেই ক্ষুব্ধ নরওয়ে কোচকে জলের বোতল আছড়ে ফেলতে দেখা যায়। আসলে নরওয়ের গোলরক্ষক নাইল্যান্ডের শট মাঠের উপরে থাকা ক্যামেরায় লেগে অ্যান্ডারসনের পায়ে পড়ে। সেখান থেকেই গোলের মুভমেন্ট শুরু। তাই ভার প্রয়োগের দাবিতে সোলবাকেনের দল সুর চড়ালেও লাভ হয়নি। সবমিলিয়ে এই ম্যাচেও বিতর্ক রয়েই গেল।
দ্বিতীয়ার্ধে কর্নার থেকে নরওয়ে গোল করলেও তা ফাউলের জন্য বাতিল হয়। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়েছিল হালান্ড। অতিরিক্ত সময়ে ফের জ্বলে উঠল বেলিংহ্যাম। এক্ষেত্রে বিপক্ষ বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নিয়েছিল রজার্স। বল নাইল্যান্ড আংশিক প্রতিহত করে। ফিরতি বল দারুণভাবে ফলো করে জাল কাঁপায় বেলিংহ্যাম (২-১)। চলতি টুর্নামেন্টে রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডারের গোলসংখ্যা এখন ৬। সোনার বুটের লড়াইয়ে আছে এই ফুটবলার। আর্জেন্তিনার কোচ স্কালোনি এতক্ষণে নিশ্চয়ই ‘মিশন বেলিংহ্যাম’-এর অংক কষা শুরু করে দিয়েছেন।