


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সংসারের মায়া ছিন্ন করেই অসীমের সঙ্গে যোগস্থাপন সম্ভব। সেই ভাবনাকে তুলে ধরে এবার টালা প্রত্যয়ের দুর্গাপুজোর থিম ‘বিয়োজন’।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে উন্মোচিত হয় থিম। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি, শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল, পুজো-কর্তা দেবল বসু, বীরেশ্বর পান্ডে সহ অন্যান্যরা। সুশান্ত পাল ‘বিয়োজন’ থিম-ভাবনা ব্যাখ্যা করেন। বলেন, ‘সংসারের মায়া কাটিয়ে ‘বিয়োজন’ হলেই অনন্তের সান্নিধ্য মেলে। সেই আধ্যাত্মিক ভাবনাই ফুটে উঠবে মণ্ডপে। এই পুজো আগে মাঠে হত। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে এখন রাস্তায় হচ্ছে। এটাও তো পুরনো থেকে ‘বিয়োজন’ হয়ে নতুনভাবে পথ চলা।’ কিন্তু ৩০ হাজার বর্গফুটের পুজো নেমে এসেছে মাত্র ৬ হাজার বর্গফুট এলাকায়। তাতে কি টালা প্রত্যয়ের গ্ল্যামার-গ্র্যাঞ্জার অটুট থাকবে? চোখধাঁধানো মণ্ডপসজ্জার সুশান্ত-ঘরানা, সেই ইউএসপি কি বজায় রাখা সম্ভব হবে? শিল্পীর কথায়, ‘বড়ো জায়গা থেকে ছোটো জায়গায় পুজো হচ্ছে। কিন্তু খামতি থাকবে না। টালা প্রত্যযয়ের পুজোর যে ঘরানা যে মিথ, কলকাতার পুজোয় যে ট্রেন্ড সেট করেছে, বিগত সময়ের শিল্পকে ছাপিয়ে যাবে এবারের মণ্ডপ।’
রিতেশ তিওয়ারি জানান, আগে যেভাবে পুজো শুরুর আগে প্রতিমা-মণ্ডপ দেখিয়ে ব্যবসা চালানো হয়েছে, কেউ ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন, এবার সেটা হবে না। তবে সুশান্ত পাল এই বিষয়টি নিয়ে বিধায়ককে পুনরায় বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। শিল্পী বলেন, ‘আগে কিছু ভুল হয়েছে, যা অন্যদের ভাবাবেগে আঘাত দিয়েছে। তবে কলকাতার পুজো বিশ্বজনীন হয়ে উঠেছে। কিছু টাকার বিনিময়ে দেশ-বিদেশের লোকজনকে নিয়ে এসে ঠাকুর দেখানো হয়েছে, সেটাকে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে ভাবলে চলবে না। অনেকেই চান ভিড় এড়িয়ে শিল্পকে অনুভব করতে, তাই এই উদ্যোগ। আশা করব, এবারও মাতৃপক্ষের সূচনা হলে কয়েকদিনের জন্য পুজো ঘুরে দেখার বাড়তি সুযোগ পাবেন আগ্রহীরা।’ পাশাপাশি শিল্পীর ব্যাখ্যা, বাঙালির দুর্গাপুজো সবসময় নিয়ম-নিষ্ঠা মেনেই হয়েছে। পুজো উৎসবের আকার নিয়েছে। বিভিন্ন সময় বিবর্তন ঘটেছে মণ্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে প্রতিমায়। এটাই শিল্পের ভবিষ্যৎ। তাতে কোনোদিন পুজোর শিষ্টাচার-নিষ্ঠায় খামতি হয় না।