


শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: যুবভারতীতে ম্যাচ শুরুর তখনও একঘন্টা বাকি। ভিআইপি গেটের বাইরে রংমশাল জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন মোহন বাগান সমর্থকরা। সবুজ-মেরুন আলোয় উৎসবের আগাম প্রস্তুতি। সব উৎসাহ, উদ্দীপনা এক ফুঁয়ে নিভিয়ে দিল আহাল। যুবভারতীতে নৌকাডুবি। তুর্কমেনিস্তানের ক্লাবটির কাছে ১-০ গোলে হেরে এসিএল টু’য়ের প্রথম ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়ল মোলিনার সাধের টাইটানিক। ছয় সপ্তাহের প্রস্তুতিতে কী করলেন স্প্যানিশ কোচ? মাঝমাঠে গ্রেগ স্টুয়ার্টের অভাব স্পষ্ট। ম্যাচ না খেলে গোটা দলের জং পড়ে গেছে। কোটি টাকার তারকাদের তুলোয় মুড়ে রাখার ফল। ক্ষুব্ধ গ্যালারি থেকে ‘মোলিনা গো ব্যাক’ ধ্বনি উঠলো। প্রস্তুতির জন্য জাতীয় দলে ফুটবলার ছাড়েননি স্প্যানিশ কোচ। অন্য টুর্নামেন্টে খেলা নিয়েও নানা বায়না। আসলে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের মাশুল গুনতে হলো ম্যাচ হেরে। গ্যালারিতে আক্ষেপের সুরে এক সমর্থককে বলতে শোনা গেল, জিতলে মোহন বাগান। হারলে সুপার জায়ান্ট।
এদিন টিম লিস্ট দেখে অনেকেই অবাক। দলে নেই রবসন, অনিরুদ্ধ থাপা, জেমি ম্যাকলারেন। হোম আডভ্যান্টেজ কাজে লাগানোর পরিবর্তে শুরু থেকেই গুটিয়ে রইল মোহন বাগান। প্রতিপক্ষকে হয়তো মেপে নিতে চেয়েছিলেন মোলিনা। কিন্তু এই স্ট্র্যাটেজি পুরো ফ্লপ। চোটের জন্য মনবীর নেই। তাঁর পরিবর্তে কিয়ানকে খেলান স্প্যনিশ কোচ। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে ব্যাক ফোর আশিস, আলবার্তো, আলড্রেড ও অভিষেক। রক্ষণের উপরে ডাবল পিভট আপুইয়া ও টাংরি। দুই উইং হাফ লিস্টন ও কিয়ান। সিঙ্গল স্ট্রাইকার কামিংসকে বল ফিডের দয়িত্বে সাহাল। ছয় বিদেশির বদলে প্রথম একাদশে মাত্র তিনজন। ফলে যা হওয়ার তাই হল। প্রথমার্ধের মোহন বাগান একেবারেই নির্বিষ। বল না পেয়ে হাঁফিয়ে গেলেন কামিংস। আহাল গোলমুখে তেমন আক্রমণ তৈরিই হয়নি। ১৫ মিনিটে তরতরিয়ে উঠে মাইনাস করেছিলেন কিয়ান। এক্ষেত্রে সাহালের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারেরর গায়ে প্রতিহত হয়। এরপর সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে বল পেয়েও তেকাঠিতে রাখতে ব্যর্থ কামিংস। এরপর নিজেই বিরক্তি প্রকাশ করলেন। মাঠের বাইরে মোলিনারও একই অবস্থা। বরং মাঝমাঠে দাপট দেখাল আহালই। দলে নেই কোনও বিদেশি। তবে সবাই অসম্ভব ফিট। ৩২ মিনিটে বাসিমভের ক্রস থেকে পা ছুঁইয়েছিলেন গুরবন। বল পোস্টে প্রতিহত না হলে গোল পেতেই পারত আহাল।
বেগতিক বুঝে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদল আনলেন মোলিনা। টাংরি ও কিয়ানের পরিবর্তে অনিরুদ্ধ থাপা ও জেমিকে মাঠে নামান তিনি। বিশ্বকাপার সতীর্থকে পেয়ে কিছুটা উজ্জীবিত কামিংসও। ৬৭ মিনিটে অল্পের জন্য বাইরে যায় কামিংসের শট। তিন মিনিট পরেই সুবর্ণ সুযোগ মিস জেমির। এক্ষেত্রে অনিরুদ্ধ থাপার থ্রু ধরে গোলের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন কামিংস। কিন্তু আরও নিশ্চিত হতে গিয়ে জেমিকে বল বাড়ান তিনি। কিন্তু দুরূহ কোণ থেকে জাল কাঁপাতে পারেননি ম্যাকা। ৭৩ মিনিটে আস্তিন থেকে রবসনকে নামিয়ে দিলেন মোলিনা। পদ্মাপাড়ের বসুন্ধরা কিংসে ফুল ফুটিয়ে এসেছেন রবসন। তাঁকে নিয়ে প্রবল প্রত্যাশা গঙ্গাপাড়েও। কিন্তু বাড়তি মেদ শরীরে। ফিটনেসের ধারেকাছে নেই। জাল কাঁপানোর বদলে গোল হজম করল পালতোলা নৌকো। ৮৩ মিনিটে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে গোল আনাইভের (১-০)।
মোহন বাগান: বিশাল, আশিস, আলড্রেড, আলবার্তো, অভিষেক (শুভাশিস), আপুইয়া, টাংরি (অনিরুদ্ধ), কিয়ান (ম্যাকলারেন), সাহাল, লিস্টন (রবসন) ও কামিংস।
মোহন বাগান- ০ : আহাল এফকে-১
( আনাইভ)