


সুলে মুসা: ২৮ বছর আগের এক দুপুর। তবে স্মৃতি এখনও টাটকা। ইডেনের সামনের রাস্তায় বাঁ দিকে টার্ন নিতেই চক্ষু চড়কগাছ। ভিড়ের চাপে গাড়ি থমকে যাওয়ার জোগাড়। ঘরোয়া লিগের ম্যাচ দেখতে এত ভিড়? বিশ্বাসই হচ্ছিল না। যাই হোক, দুরুদুরু বুকে সেদিন ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে পৌঁছই। বৃষ্টিভেজা মাঠে প্রথম দিন তেমন সুবিধা করতে পারিনি। স্বভাবতই বেশ হতাশ হয়েছিল লাল-হলুদ গ্যালারি। ড্রেসিং-রুমে ফিরে প্রতিজ্ঞা করি, সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতেই হবে। কয়েক মাস পরের ঘটনা আরও মজাদার। লিগ জেতার পর মাঠেই দড়িতে বাঁধা জোড়া ইলিশ তুলে দিয়েছিলেন এক অনুরাগী। লাল-হলুদ জার্সিতে যা আমার অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। সাফল্যের ছোঁয়ায় মুসা, জ্যাকসন, ওপোকুকেও আপন করে নিয়েছে ইস্ট বেঙ্গল জনতা।
১৯৯৮ সাল। ফুটবলার সই করাতে ঘানায় পৌঁছে গিয়েছিলেন কর্তা স্বপন বল। জ্যাকসন, ওপোকুর সঙ্গে এই অধমকেও ইস্ট বেঙ্গলের চুক্তিতে সই করান তিনি। বলতে দ্বিধা নেই, স্বপনদা’র মতো ম্যানেজার যে কোনও দলের সম্পদ। যাই হোক, ঐতিহ্যশালী ইস্ট বেঙ্গলে যোগ দিয়ে দারুণ অনুভূতি হয়েছিল। কলকাতা লিগের উন্মাদনা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। পায়ের নীচে কাদা, উপরে গনগনে সূর্য। এমন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। শুরুতে গোল না পেলেই সমস্যা বাড়ত। সমর্থকদের প্রবল প্রত্যাশার চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ইস্পাতকঠিন নার্ভ দরকার। আসলে কলকাতা লিগ হল একজন ফুটবলারের অ্যাসিড টেস্ট। প্রতি মুহূর্তে মাইক্রোস্কোপে মাপা হবে পারফরম্যান্স। বড় ম্যাচের আগে বদলে যেত আবহ। সমর্থকদের মতো কর্তাদের মুখও থমথমে। সবমিলিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা। নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রমাণের চাপ থাকত ঘরোয়া লিগে। অথচ সেই লিগের বর্তমান দশা দেখে কষ্ট হয়। বিশেষ করে, বিদেশি ফুটবলার খেলানোয় নিষেধাজ্ঞা একেবারেই অযৌক্তিক। বিশ্বাস করুন, এত সমর্থকের মাঝে নিজেকে চেনানোর জন্য মুখিয়ে থাকত বিদেশিরা। শুধু তাই নয়, সর্বভারতীয় টুর্নামেন্টের আগে কম্বিনেশন তৈরির জায়গাও ছিল কলকাতা লিগ। প্রি-সিজন প্রস্তুতির পর ম্যাচ প্র্যাকটিস প্রয়োজন। সেই দিক থেকে কলকাতা লিগের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আই লিগ বা অন্য টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এখানেই কয়েক পা এগিয়ে থাকত কলকাতার ক্লাবগুলি। ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতা। আর ময়দানের ফুসফুস এই লিগ। ফুটবল কর্তাদের অনুরোধ, যে করে হোক লিগকে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনুন। এতে আখেরে ভারতীয় ফুটবলেরই মঙ্গল।