


সংবাদদাতা,মেদিনীপুর: হাউস ফর অল প্রকল্পে টাকা নিয়েও যারা বাড়ি করেননি তাদের বিরুদ্ধে এবার এফআইআর করবে মেদিনীপুর পুরসভা। পুরসভা সূত্রে খবর টাকা পেয়ে গিয়েছেন কিন্তু বাড়ির কাজ শেষ করেননি এমন উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ওই সূত্র জানাচ্ছে বারবার নোটিস পাঠানো সত্বেও ওই উপভোক্তাদের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক উত্তর পাওয়া যায়নি। পুরসভার পূর্ত দপ্তরের সিআইসি সৌরভ বসু বলেন, এবার তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এটাই নিয়ম। চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, এখনও পর্যন্ত টাকা নিয়ে বাড়ি না করার সংখ্যাটা ৩৮। ওই উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে পুরসভার পক্ষ থেকে এফআইআর করা হচ্ছে। তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এইসব উপভোক্তাদের একাধিকবার নোটিস দিয়ে বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো গুরুত্ব দেননি। ফলে এফআইআর করা ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনো পথ নেই। তিনি বলেন, নতুন করে এবার পুরসভা আরও ৩৫০০ বাড়ির অনুমোদন পেয়েছে। তার তালিকাও তৈরি হয়ে গিয়েছে।
এদিকে এই প্রকল্পে এবার থেকে উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করলে তবেই সরকার তার অংশের টাকা দেবে। নতুন করে যাঁরা বাড়ির টাকা পাবেন তাঁদের আগে নিজেদের টাকায় বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করতে হবে। সেই তথ্য নগরোন্নয়ন দপ্তরে পাঠালে তারা পর্যায়ক্রমে বাকি টাকা পাঠাবে। চেয়ারম্যান বলেন, এই প্রকল্পে উপভোক্তাকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়। বাকি টাকা দেয় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। বলা হয়েছে উপভোক্তাকে তার অংশের ২৫ হাজার টাকা দিয়ে আগে কাজ শুরু করতে হবে। পুরসভা থেকে সেই কাজের জিও ট্যাগিং পাঠালে নগরোন্নয়ন দপ্তর উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারের অংশের টাকা পাঠাবে।
প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পে উপভোক্তাকে দিতে হয় ২৫ হাজার টাকা। রাজ্য সরকার ২ লক্ষ এবং কেন্দ্রীয় সরকার ১ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা দেয়। তিন পর্যায়ে এই টাকা দেওয়া হতো। এতদিন বাড়ি অনুমোদন হয়ে গেলে প্রথম পর্যায়ের টাকা দিয়ে দেওয়া হতো। কাজ শুরু হলে বাকি টাকা দেওয়া হতো। এবার সেই নিয়ম বদল করা হল। চেয়ারম্যান বলেন, প্রথমে তাদের টাকায় কাজ শুরু করতে হবে বলে উপভোক্তাদের নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে মেসেজ করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও কেউ বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি। কারণ বাড়ি তৈরি করার আগে পুরসভাকে জানাতে হবে। আমরা এখনও সেরকম কোনো খবর পাইনি।