


সুখেন্দু পাল, কাটোয়া: আপন খেয়ালে বয়ে চলছে ভাগীরথী। পাড়ে কালী মায়ের মন্দির। স্নান করতে এসে কালি মায়ের মন্দিরে প্রার্থনা করছেন ভক্তরা। আর তাঁদের ফুল, বেলপাতা, সিঁদুর বাড়িয়ে দিচ্ছেন ৭০ বছরের আরেক মা, শান্তিবালা দাস। কানে ঠিক মতো শুনতে পান না। দোকানের সামনে কেউ এগিয়ে এলে বাড়িয়ে দিচ্ছেন ডালি। তাঁর দেওয়া ফুলে পূজিত হচ্ছেন শ্যামা মা। বহু বছর বছর ধরে এমনটাই চলছে। কাটোয়া শ্মশান ঘাটের কাছে এসেছেন অথচ শান্তিবালাদেবীকে দেখেননি এমন মানুষ খুব কমই আছে। এলাকার বাসিন্দাদের সকলের কাছে তিনি প্রিয়। সামনেই কালীপুজো। এই সময় ঘাটে ফুল, বেলপাতা বেশি বিক্রি হবে। এই আশাতেই তিনি পসরা সাজিয়ে বসেন। ফুল বিক্রি করেই তাঁর বাঁচার রসদ জোগাড় হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তাঁর বাড়ি কাটোয়া শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীগঞ্জে। বাড়িতে একা থাকেন। চার বছর আগে স্বামী মারা গিয়েছেন। এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে নবদ্বীপে। ভাগীরথীর পাড়ে মন্দিরের সামনে ফুল, সিদুঁর সহ অন্যান্য সামগ্রী তিনি বিক্রি করছেন বহুদিন ধরে। সারা বছরই নদীর পাড়ে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আসেন। তাঁরা এক মায়ের কাছে অর্ঘ্য কিনে নিবেদন করেন অন্য মা’কে।
শান্তিবালাদেবী বলেন, কালীপুজোর সময় বিক্রিবাটা ভালই হয়। পাড়ে শ্যামা মায়ের পাশাপাশি মহাদেবের মন্দিরও রয়েছে। ভক্তদের বেশিরভাগই পুজো দিয়ে বাড়ি ফেরেন। কাটোয়া থেকে পুজোর সামগ্রী কিনে নিয়ে আসি। সকাল থেকে দুপুরের পর পর্যন্ত ভাগীরথীর পাড়েই থাকি। বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়া করে আবার পরের দিনের প্রস্তুতি নিতে হয়।
ভাগীরথীর পাড়ে এসেছিলেন শম্পা অধিকারী। তিনি বলেন, ওঁকে বহুদিন ধরে এখানে দেখছি। মাঝেমধ্যেই ঘাটে আসি। এক মায়ের হাতে পুজোর সামগ্রী নিয়ে অন্য মা’কে নিবেদন করার অনুভূতিই অন্য রকম। এখানকার মন্দিরে সারা বছরই পুজো হয়। আর এক ভক্ত সহদেব মণ্ডল বলেন, উনি কানে কম শোনেন। হাত দিয়ে সব কিছু দেখাতে হয়। প্রতিদিন তিনি একাই দোকান সাজান। এই বয়সে এত পরিশ্রম করার জন্য তাঁকে প্রণাম করতে হয়। এমন মায়ের আর্শীবাদ পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার। হেমন্তের দুপুরে ভাগীরথীর পাড়ে রোদের সেই তাপ নেই। ঘাটের জলে টাকা, সোনা, রুপো খুঁজে চলছে কিশোরের দল। ঘাটে স্নান করে উঠে মন্দিরে মাথা ঠুকছেন ভক্তরা। আর শান্তিবালাদেবী ভক্তদের অপেক্ষা করে রয়েছেন। তাঁরা পুজোর সামগ্রী কিনলে তবেই বাঁচার রসদ পাবেন তিনি। জটলা দেখলেই বলে চলেন, মায়ের পুজোর ডালি নিয়ে যান। কাটোয়ার শশ্মানঘাটে ভাগীরথীর তীরে বসে পুজোর ফুল বিক্রি করছেন বৃদ্ধা শান্তিবালা দাস।-নিজস্ব চিত্র