


শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত ইন্টার কাশী। ফুটবলাররা বেতন পাচ্ছেন না। একাধিকবার তাগাদা দিয়েও মিলেছে স্রেফ প্রতিশ্রুতি। এমন পরিস্থিতিতে টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন ইন্টার কাশীর ফুটবলাররা। ই-মেল করে নোটিশ দিয়েছেন থিঙ্কট্যাঙ্ককে। ৪ মে’র মধ্যে বকেয়া না মেটালে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে। টাকা না পেলে বাকি ম্যাচও খেলতে নারাজ তাঁরা। অধিকাংশ ফুটবলারের বেতন বাকি ২ মাসের। স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও ক্ষুব্ধ। কোনোরকমে বাবা-বাছা করে শান্ত রাখা হয়েছে স্প্যানিশ কোচকে। এখানেই শেষ নয়। ম্যাচ আয়োজনের জন্য বিভিন্ন ভেন্ডরের সাহায্য নেয় কাশী ম্যানেজমেন্ট। সেখানেও বিশাল অর্থ বকেয়া। ক্রমাগত তাগাদার চিঠি দিচ্ছেন তারাও। সবমিলিয়ে আইএসএলের মাঝেই প্রবল সমস্যায় ইন্টার কাশী।
আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের সর্বোচ্চ লিগে পা রেখেছে ইন্টার কাশী। যদিও চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে নজিরবিহীন বিতর্ক তৈরি হয়। খেতাব জিতেছিল গোয়ার চার্চিল ব্রাদার্স। শেষ ম্যাচের পর তাদের আই লিগ ট্রফিও দেওয়া হয়। এরপর বেনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্যাসে আবেদন করে কাশী কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত ফিফার সিদ্ধান্তে আই লিগের শিরোপা জেতে তারা। কিন্তু দেশের এক নম্বর টুর্নামেন্টে অভিষেকেই ল্যাজেগোবরে অবস্থা ইন্টার কাশীর। দলটি আরডিবি গ্রুপ চালনা করে। কিন্তু এখনও কোনো হোম গ্রাউন্ড নেই। যাযাবরের মতো কলাণী কিংবা কিশোর ভারতীতে ম্যাচ খেলতে হয় ফুটবলারদের। কান পাতলে শোনা যায়, গেরুয়া শিবির ঘনিষ্ঠ কর্পোরেট কর্তারা কাশীতে প্রচুর লগ্নি করেছেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে ফুটবল দলকে নিয়ে তেমন উৎসাহী নন কেউই। ফলে আটকে রয়েছে ফান্ডিং। তাঁরা বেওসা বোঝেন। ফুটবল আবেগ চুলোয় যাক। কিন্তু ফুটবলাররা কোথায় যাবেন? এটাই তাদের রুটিরুজি। কিন্তু টাকা না পেয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে। এভাবে চললে ইন্টার কাশীর ভবিষ্যৎ সত্যিই অনিশ্চিত।