


সংবাদদাতা,পুরুলিয়া: উত্তর ২৪ পরগনার এক মহিলার আধার কার্ড দেখিয়ে পুরুলিয়া শহরের হোটেলে রুম বুক করেছিল চার বাংলাদেশি যুবক। সর্বক্ষণ শাড়ি, সালোয়ার পরেই মহিলা সেজে গা ঢাকা দিয়েছিল তারা। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে শাড়ি পরে ওই যুবকদের যাতায়াতের ফুটেজও রয়েছে। টোটোতে চেপেই তারা মূলত যাতায়াত করত বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই তোলপাড়। পুলিশ চারজনকেই গ্রেপ্তার করেছে। হোটেল মালিকও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন। তাঁর কথাবার্তাতেও বেশ কিছু অসংঙ্গতি রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানাগিয়েছে, রঘুনাথপুরে ধৃত এক যুবকের সূত্র ধরেই পুরুলিয়া শহরে থাকা বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে ধৃতরা প্রায় তিনমাস ধরে পুরুলিয়া শহরের ওই বহুতল হোটেল ছিল। হোটেলের মালিক থেকে কর্মী সকলেই ধৃতদের যাতায়াতের পথে সবসময়ই শাড়ি পরেই দেখেছিলেন। আলাদা ভাবে খেয়াল না করায় ওরা যে পুরুষ হয়েও মহিলা সেজে রয়েছে, সেবিষয়টি নজরে আসেনি বলে দাবি হোটেল কর্তৃপক্ষের। উত্তর ২৪ পরগনার মনি সরকার নামে এক মহিলার নামে হোটেল বুকিং করা হয়েছিল। তারই আধার কার্ড পরিচয়পত্র হিসাবে দেওয়া হয়েছিল বলে জানাগিয়েছে। ওদের সঙ্গেই আরও কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিও থাকতেন বলে জানাগিয়েছে। মাত্র একজনের আধার কার্ড দেখিয়ে চারজনকে কেন থাকতে দেওয়া হয়েছিল, তাও খোঁজ নিয়ে দেখছে পুলিশ।
হোটেলের নিরাপত্তাকর্মী সনাতন দাঁ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাতটা নাগাদ ওদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওরা অধিকাংশ সময় শাড়ি পড়ত। সালোয়ার কামিজও পড়ত। ওরা সকালেই কাজে বেরিয়ে পড়ত। কী কাজ করত জানিনা। কতদিন ধরে হোটেলে রয়েছে, তাও ঠিক করে বলতে পারব না।’ তুলা কালিন্দী নামে এক হোটেল কর্মী বলেন, ‘ওরা হোটেলের রুমে যাওয়া আসার পথে কথাও বলত। ওরা যে ছেলে এতদিন বুঝতেই পারিনি। মেয়ের মতোই লাগত। নীচে রান্না করার সময় ওরা সিঁড়িতে মাঝে মাঝে ওঠা নামা করত। সেই সময়ই যেটুকু কথা হত। ওরা ভালো মন্দ জিজ্ঞাসা করত। কণ্ঠস্বর ছিল অনেকেটা মেয়েদের মতো। এ ছাড়া আর কিছুই জানিনা।’
হোটেলের মালিক নজরুল হক বলেন, ‘ওদের যে চারজনের আধার কার্ড নিতে হবে এমন নিয়মের কথা জানতাম না। একজনের নামেই হোটেল বুকিং ছিল। উত্তর ২৪ পরগনার মনি সরকার। তার আধার কার্ডও রয়েছে।’ তবে মনি সরকার হোটেলে না থাকলেও তার আধার কার্ড ব্যবহার করে কেনো অন্য কাউকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল সেবিষয়ে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি হোটেল মালিক। নজরুল বলেন, ‘মনি সরকারই মাঝে মাঝে থাকত। ওই নিয়ে এসেছিল বাকিদের। থানাতে কোনও তথ্য অবশ্য জানানো হয়নি। চব্বিশ পরগনার আধার কার্ড দেখিয়েছে। কি করে বাংলাদেসি বলে বুঝব। তাছাড়া ওরা মাঝে মাঝে হোটেলে থাকত না। ওরা বলেছিল ওদের বাঁকুড়ার ধলডাঙাতে হেড অফিস। টোটো চেপে গোশালা মোড়ে যেত। কোনও বাংলাদেশিকে হোটেলে রাখিনি। ওরা কেউ যুবক নয়। ওরা সবাই মহিলা। হোটেলের সবাইকে জিজ্ঞাসা করলেই বুঝতে পারবেন ওরা মহিলা ছিল।’ হোটেল মালিকের এইসব কথাবার্তাতেও বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানাগিয়েছে। সেই সঙ্গে আবাসিকদের কোনওরকম তথ্য কেনো হোটেলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতরা পুরুলিয়া শহরে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত, কী কাজ করত তা জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। ধৃতরা চারজনকেই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে বলে জানাগিয়েছে।