


সংবাদদাতা, ঝালদা: আড়ষা থেকে বেগুনকোদোর যাওয়ার মূল রাস্তার দু’ধারে বনভূমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িঘর ও দোকানপাট গড়ে ওঠার অভিযোগ ঘিরে নড়েচড়ে বসল বনদপ্তর। আড়ষা এলাকার হেটজাড়ি মৌজার জাড়ি এলাকায় রাস্তার দু’ধারে এমন প্রায় ৪০টি বাড়ি ও ব্যবসায়িক দোকানপাট রয়েছে বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, রাস্তার পাশে বনভূমির যে অংশে গাছ লাগানোর কথা, সেই জমিতেই একের পর এক নির্মাণ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই অবৈধ নির্মাণকারীদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার আড়ষা রেঞ্জ অফিসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হেটজুড়ি মৌজার জাড়ি এলাকার মূল রাস্তার দু’পাশে দীর্ঘ অংশজুড়ে এই নির্মাণগুলি রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় এক বিঘা বনভূমি দখল হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শুক্রবার সেখানকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের আড়ষা রেঞ্জ অফিসে ডাকা হয়। তাঁরা রেঞ্জারের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের বনভূমিতে থাকা নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের কথা জানানো হয়।
বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এদিন মূলত অবস্থান স্পষ্ট করে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এরপর জমির প্রকৃত অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আধিকারিকের বক্তব্য, ওই এলাকায় থাকা অধিকাংশ মানুষই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে কেউ ভূমিহীন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। যাঁদের বিষয়ে পৃথকভাবে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির বাঘমুণ্ডি মণ্ডল-৬-এর সাধারণ সম্পাদক পবন সিং সর্দারের দাবি, তৃণমূলের আমলেই বনভূমি দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে ওঠার অভিযোগ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, বনভূমি সংরক্ষণের স্বার্থে অবিলম্বে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।
ডিওয়াইএফের পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক চিরঞ্জিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, কারা বনভূমি দখল করে বসবাস বা ব্যবসা করছে, তাদের প্রকৃত পরিস্থিতি কী, আদৌ তাদের নিজস্ব বসবাসের জায়গা রয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারও বসবাসের জায়গা থাকলে বনদপ্তরের জমি দখল করে নির্মাণ করা উচিত নয়।
তবে বনদপ্তরের নোটিসে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবসা করা কয়েকটি পরিবার। স্থানীয় দোকানদার সিধেশ্বর মাহাত বলেন, আমরা এখানে জন্ম থেকে আছি। এখন নোটিস দেওয়া হয়েছে। উঠে যেতে বললে কোথায় যাব? বাবা খাবারের দোকান করতেন, এখন সেই দোকানই চালাই। পথে বসে ছাড়া উপায় নেই।
অন্য দোকানদার বাবলু গোস্বামীর দাবি, ১৯৮৮ সাল থেকে তাঁর বাবা পান দোকান চালাতেন। বর্তমানে তিনিই সেই দোকান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, বেকার ছেলে, পড়াশোনা করে সংসার চালানোর জন্য এই কাজ করছি। মা-বাবা বয়স্ক। সরকার তুলে দিলে আমরা কী করব? একটা চাকরি থাকলে কি এখানে দোকান করতাম?