


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়। তারপর প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে আসা। অভিযোগ, এদেশে এনে আটকে রেখে ধর্ষণ এবং শেষে কলকাতার নিষিদ্ধ পল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল ১৪ বছরের কিশোরীকে। আর সেই মামলায় চার অভিযুক্তকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিল বারাসত আদালতের স্পেশাল পকসো কোর্ট। সোমবার সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। সাজা প্রাপকরা হল মিজানুর গাজি, রুবি আক্তার ওরফে প্রিয়াঙ্কা ঘোষ, সমীর রায় ওরফে দীপক ও স্বপন গুঁই ওরফে বাপি। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের নোয়াখালির বাসিন্দা ওই কিশোরীর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হয়েছিল বাগুইআটির রুবির। সেই সূত্রেই পরিচয় হয় রুবির ভাই নাজমুলের সঙ্গে। অভিযোগ, পরে প্রেমের সম্পর্কের জালে জড়িয়ে কিশোরীকে ভারতে আনার পরিকল্পনা করা হয়। রুবির বন্ধু মিজানুরও ফোনে যোগাযোগ রাখতেন তার সঙ্গে। অনলাইনে টাকাও পাঠানো হত কিশোরীকে। অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল গভীর রাতে মিজানুরের সাহায্যে চোরাপথে তাকে ভারতে আনা হয়। পরে আটকে রেখে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। শেষপর্যন্ত কলকাতার এক নিষিদ্ধপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
বাংলাদেশ হাই কমিশনারের মাধ্যমে বিষয়টি ভারতীয় দূতাবাসের নজরে এলে রাজ্য পুলিশকে জানানো হয়। বাগুইআটি থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। কিশোরীকে উদ্ধার করে হোমে পাঠায়। ১৯ জন সাক্ষীর বয়ান ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শনিবার চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক।
মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, প্রত্যেকের ১০ বছর করে জেল হয়েছে। ওইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও নির্যাতিতাকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক।