


কাঠমাণ্ডু: মাত্র মাসখানেক আগেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। গদিতে বসেই নতুন কর কাঠামো থেকে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করবার মতো একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তার জেরে মাস ঘুরতে না ঘুরতেই বালেনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে নেপালের মানুষের মনে। ইতিমধ্যেই সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পথে নেমেছেন তাঁরা।
ক্ষমতায় আসার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ সহ যাবতীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে বালেনের সরকার। গত ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। ছাত্র সংগঠনগুলির পতাকা, ব্যানার, অফিস সহ যাবতীয় কিছু সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বালেনের এই পদক্ষেপকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে তোপ দেগেছেন সেদেশের ছাত্রনেতারা। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলি।
অন্যদিকে ভারত থেকে ১০০ নেপালি টাকার বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কর আরোপ করেছে নেপালের নবনির্বাচিত সরকার। বালেনের এই সিদ্ধান্তে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে দক্ষিণের সমতলের এলাকাগুলিতে। বিশেষ করে বীরগঞ্জের মতো সীমান্তবর্তী শহরে। ঐতিহাসিকভাবেই এই এলাকার মানুষ ভারতের উপর নির্ভরশীল। প্রান্তিক এই এলাকায় কাঠমাণ্ডু থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ অনিয়মিত। ফলে গৃহস্থালির জিনিস থেকে শুরু করে নানাবিধ প্রয়োজনীয় বস্তু ভারত থেকে নিয়ে আসেন তাঁরা। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া নেপালের ভূখণ্ডে ভারতের গাড়ি ও মোটরবাইক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। যার জেরে তীব্র যানবাহন সমস্যায় পড়েছেন এই এলাকার মানুষজন। বালেন সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পথে নেমেছেন মানুষ। প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন বহু পড়ুয়াও। সবমিলিয়ে ক্ষমতায় আসার মাস ঘুরতে না ঘুরতেই সমস্যায় বালেন শাহের সরকার।