


ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: গ্রামের মাঝে ছোট্ট টিনের ঘর। বারান্দায় চেম্বার। টেবলের একপাশে রাখা রাসটক্স, ব্রায়োনিয়া, ক্যালি ফস, অ্যালুমিনার মতো হোমিওপ্যাথি ওষুধের শিশি। অন্যপাশে ঝুড়িতে আম, কলা, আনারস, ড্রাগন ফ্রুট। বাজার থেকে কেনা ফল নয়, সবই বাড়ির বাগানে ডাক্তারবাবুর নিজে হাতে ফলানো। এলাকার বাসিন্দাদের পুষ্টিতেই নজর তাঁর। আর তাই যাঁদের বাজার থেকে ফল কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই, তাঁদের জন্য প্রায় এক বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ফলের বাগান। সেখানে আম, কলা, পেয়ারা, লেবু, ড্রাগন ফ্রুট কী নেই! গ্রামের অসহায় মানুষজন ওষুধ নিতে এলে তাঁদের হাতে একটি করে ফল তুলে দেন জলপাইগুড়ির মোহিতনগর জোড়দিঘি এলাকার বাসিন্দা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক অজিত সরকার। বলেন, শুধু ওষুধে রোগ সারবে না। সঙ্গে লাগে পথ্য। রোজ একটি করে ফল খেলে দূরে থাকবে রোগব্যাধি।
বাবা অখিলচন্দ্র সরকার উদ্যানপালন দপ্তরে চাকরি করতেন। ফলে বাড়িতে গাছগাছালির সঙ্গে শখ্যতা অনেক দিন থেকেই। সেটাকে নিজের মতো করে গড়ে তুলেছেন অজিত। বললেন, বাড়ির পাশাপাশি অন্য জায়গাতেও চেম্বার রয়েছে। সেখানে সবসময় ফল নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। তবে প্রেসক্রিপশনে ফল খাওয়ার পরামর্শ থাকবেই। সেক্ষেত্রে কোনও অসহায় রোগী চেম্বারে এলে ওষুধপত্র দেওয়ার পর আমার বাড়ির ঠিকানা দিয়ে দিই। বলি, সময় করে গিয়ে বাগান থেকে ফল নিয়ে আসতে।
সোমবার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক অজিত সরকারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাগানে ড্রাগন ফ্রুট গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। বললেন, আমার বাগানে অন্তত ২০টি প্রজাতির একশোটিরও বেশি ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে। চেম্বার সামলানোর পাশাপাশি নিয়ম করে এগুলির পরিচর্যা করতে হয়। না হলে রোগীদের হাতে তুলে দেব কী করে!
ফলের বাগান পরিচর্যায় অজিতকে সাহায্য করেন স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে। মহারাষ্ট্র থেকে ড্রাগন ফ্রুটের চারা এনেছেন। তাঁর কাছে রয়েছে জাম্বু রেড, সিয়াম রেড, তাইওয়ান পিঙ্ক, এলডি-৫’র মতো ড্রাগন ফ্রুটের উন্নত প্রজাতি।
ওই চিকিৎসকের কথায়, অপুষ্টিজনিত কারণে গ্রামের মানুষের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। সেকারণে বাগানে বেশি করে ড্রাগন ফলের গাছ লাগিয়েছি। যাতে তাঁদের হাতে দু’টো ফল তুলে দিতে পারি। তাঁর দাবি, রোগীদের দেওয়ার পরও এবার একশো কেজির বেশি ড্রাগন ফ্রুট বিক্রি করেছি। অসম, মেঘালয় থেকে এসেও আমার বাগানের ফল নিয়ে গিয়েছেন অনেকে। ড্রাগন ফ্রুট গাছের পরিচর্যায় অজিত সরকার। - নিজস্ব চিত্র।