


নয়াদিল্লি: টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর অবশ্য মনে করছেন, হঠকারী এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবে তারা। সানি বলেছেন, ‘আগামী কয়েকদিনে বিশ্বজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে পাকিস্তান। এমনকী, ওদের প্রাক্তন ক্রিকেটাররা পর্যন্ত এটা মানবে না। আমার মনে হয়, চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলাতে পারে ওরা। আর তাতে অবাক হওয়ারও কিছু থাকবে না। পাক ক্রিকেটাররা প্রায়শই অবসর নেওয়ার আট-দশদিন পর তা ভেঙে মাঠে ফেরে। আর যুক্তি দেখায়, সমর্থকদের দাবিতেই না কি অবসর ভাঙল। ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচের আগে তেমন কিছু হতেও পারে। এক্ষেত্রে পাক ক্রিকেটাররাই তো জ্বলন্ত উদাহরণ। ইউ-টার্ন করার ক্ষেত্রে ওদের জুড়ি মেলা ভার।’
এই ব্যাপারে আইসিসি’র কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন গাভাসকর। তাঁর কথায়, ‘শেষ মুহূর্তে খেলব না বলা কিন্তু গুরুতর ব্যাপার। পাকিস্তান যা করেছে তাতে আইসিসি’র অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিভিন্ন দেশের বোর্ড সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিক। এটা তো আর কোনও একজনের সিদ্ধান্তের ব্যাপার নয়। ওদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে কোনও দল এমন খামখেয়ালি আচরণ করতে না পারে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই আইনি ব্যবস্থা নেবে আইসিসি। এর পরিণতি কী তা আমার জানা নেই। পাক সরকারের সিদ্ধান্তে ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা যে রীতিমতো অসন্তুষ্ট, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হল, ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার জন্য ওদের কাছে যথাযথ কোনও কারণই নেই। ওরা যদি মাঠে না আসে তবে চুক্তিভঙ্গের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিক আইসিসি বোর্ড।’
একই সুরে গলা মিলিয়েছেন হরভজন সিং। প্রাক্তন অফস্পিনারের মতে, ‘ওরা নাটক করছে। পাকিস্তানের তো কোনও সমস্যা ছিল না আগে। ওরা হঠাৎই বাংলাদেশের ইস্যুতে জড়িয়ে পড়ল। আসলে ক্রিকেটপ্রেমীদের ভুল পথে চালিত করতেই এমন নাটক করছে। দেখাতে চাইছে, বাংলাদেশের কত পরম বন্ধু পাকিস্তান! কিন্তু নিজের দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা যে ভারত-পাক দ্বৈরথ দেখতে চায়, সেটা মাথায় রাখেনি সে দেশের সরকার। টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলে ওদের যে কী লাভ হবে সেটাও তা স্পষ্ট নয়। বরং এই ম্যাচ না হলে আইসিসি’র ক্ষতি। এতে পুরো প্রতিযোগিতাই প্রভাবিত হবে। তাই পাকিস্তানকে উচিত শাস্তি দেওয়ার অধিকার রয়েছে আইসিসি’র।’