


প্যারিস ও বার্লিন: প্রতি সপ্তাহান্তে বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ইউরোপ। মূল্যবৃদ্ধি, বেহাল শিক্ষা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে পথে নামছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। কোথাও আন্দোলনের নেতৃত্বে জেন-জি। আবার কোথাও পথ দেখাচ্ছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।
শনিবার জার্মানির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শামিল হয় কয়েক হাজার মানুষ। রাতে ফ্রাঙ্কফার্টে কমপক্ষে দু’টি দোকান লুট করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ-প্রশাসনের দাবি, হুডি পরে এই তাণ্ডব চালিয়েছে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। অভিযোগ, জরুরি পরিষেবায় নিযুক্ত কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর, বোতল, আতসবাজি ছোড়া হয়। এহেন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সিটি সেন্টারে না আসার পরামর্শ দিয়েছে ফ্রাঙ্কফার্ট পুলিশ। বিবৃতি দিয়ে তারা জানিয়েছে, ‘সিটি সেন্টারে একাধিক দোকানের কাচ ভাঙা হয়েছে। মলোটভ ককটেল ছুড়ছে বিক্ষোভকারীরা। সকলকে এখানে আসতে মানা করা হচ্ছে।’ হামবুর্গে একাধিক এলাকায় বারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। কোলন, বার্লিনেও একই ছবি ধরা পড়েছে। এদিন ‘জেন জি রেগেল্ট’ নামে একটি যুব সংগঠনের ডাকে পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। মিউনিখ, ফ্রাঙ্কফার্ট সহ মোট ৩৪টি শহরে আন্দোলনে নামে তরুণ প্রজন্ম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ হলেও বেশকিছু জায়গায় হিংসা ছড়িয়ে পড়ে।
জার্মানির পাশাপাশি বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ফ্রান্সও। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৩ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ প্রতিবাদে শামিল হন। পরিস্থিতি সামলাতে আগে থেকেই প্যারিস সহ বিভিন্ন শহরে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও বাহিনী মোতায়েন করেছিল ম্যাক্রঁ প্রশাসন। পড়ুয়াদের সঙ্গে পথে নামেন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা। প্যারিসে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশকে লক্ষ্য করে মলোটভ ককটেল ছোড়ে আন্দোলনকারীরা। এই ঘটনায় তিনজন পুলিশকর্মী জখম হন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। কিছু জায়গায় লাঠিচার্জও করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৬৫ জনকে। প্যারিসে হ্যালোয়িনের সাজে বিক্ষোভকারীরা।